
Asha Bhosle Untold Story: সুরের জাদুকর আশা ভোঁসলেকে নিয়ে উদ্বেগজনক খবর। শোনা যাচ্ছে, হার্ট অ্যাটাক হওয়ায় তাঁকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছে। সারা বিশ্বের ভক্তরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। যদিও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। ৯২ বছর বয়সেও যিনি গলার জাদুতে মুগ্ধ করে রেখেছেন, সেই আশা তাই-এর জীবনটা কোনও সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়। আজ তাঁর কাছে নাম, যশ, খ্যাতি সবই আছে, কিন্তু একটা সময় ছিল যখন তিনি নিজের জীবনটাই শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। আসুন, জেনে নেওয়া যাক তাঁর জীবনের কিছু না-শোনা গল্প।
আশা জির জন্ম ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, মুম্বইয়ের সাঙ্গলিতে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর সঙ্গীতের সফরটা ছিল কাঁটায় ভরা। মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবার ছায়া মাথার উপর থেকে সরে যায়। পরিবারের দায়িত্ব নিতে ওই ছোট্ট বয়সেই গান গাওয়া শুরু করেন। কিন্তু জীবনে আসল ঝড় আসে যখন তিনি ১৬ বছর বয়সে পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে লতা মঙ্গেশকরের সেক্রেটারি গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। এই সিদ্ধান্তে দিদি লতা এতটাই রেগে গিয়েছিলেন যে তিনি নিজের বোনের সঙ্গে সম্পর্কই ছিন্ন করেন। বিয়ের পর আশাকে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হতে হয়। তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে তাঁর মনে আত্মহত্যার চিন্তাও এসেছিল।
আজ যাঁর গলার জাদুতে গোটা দুনিয়া মুগ্ধ, তাঁকেই কেরিয়ারের শুরুতে চরম প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের ঘটনা। কিশোর কুমারের সঙ্গে একটি গান রেকর্ড করার কথা ছিল তাঁর। তখন সঙ্গীত পরিচালক খেমচাঁদ প্রকাশ তাঁর গলাকে 'একেবারে বাজে' বলে স্টুডিও থেকে বের করে দেন। কিন্তু আশা জি হার মানেননি। এরপর ১৪টি ভাষায় ১২,০০০-এরও বেশি গান গেয়ে ইতিহাস তৈরি করেন।
আশা জির দ্বিতীয় প্রেমের গল্পটাও সহজ ছিল না। তিনি সঙ্গীত পরিচালক আরডি বর্মন (পঞ্চম দা)-র প্রেমে পড়েন। পঞ্চম দা যখন তাঁর মাকে এই বিষয়ে জানান, তখন তিনি সাফ বলে দেন, 'এই বিয়ে আমার মরা দেহের উপর দিয়ে হবে।' বিরোধিতার কারণ ছিল, আশা জি আরডি বর্মনের থেকে ৬ বছরের বড় এবং তিন সন্তানের মা ছিলেন। যদিও পরে ১৯৮০ সালে তাঁদের বিয়ে হয় এবং এই জুটি সঙ্গীত জগতকে অনেক স্মরণীয় গান উপহার দেয়।
আশা তাই শুধু ভালো গানই করেন না, তিনি দুর্দান্ত রান্নাও করেন। তিনি নিজেই বলেন, যদি গায়িকা না হতেন, তাহলে আজ একজন শেফ হতেন। দুবাই থেকে শুরু করে কুয়েত এবং আবুধাবি পর্যন্ত তাঁর 'Asha's' নামের রেস্তোরাঁ রয়েছে। প্রয়াত অভিনেতা ঋষি কাপুর তাঁর হাতের তৈরি 'কড়াই গোস্ত' এবং 'শামি কাবাব'-এর দারুণ ভক্ত ছিলেন। ৯২ বছর বয়সেও আশা জি নিজের ছেলেমেয়েদের জন্য রান্না করতে ভালোবাসেন।
১৯৪৩: মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রথম মারাঠি গান গান।
১৯৪৮: 'চুনরিয়া' ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় পা রাখেন।
১৯৯৭: প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন।
২০০০-২০০৮: দাদাসাহেব ফালকে এবং পদ্মবিভূষণের মতো বড় সম্মানে ভূষিত হন।
২০১১: সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করার জন্য 'গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস'-এ নাম ওঠে।
Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.