
অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি আর পরেশ রাওয়ালের তিনমূর্তির ছবি 'হেরা ফেরি ৩' আবার চর্চায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ করেই খবর ছড়াতে শুরু করে যে, পরেশ রাওয়াল নাকি আবার ছবিটা ছেড়ে দিয়েছেন। এই খবরে ফ্যানেদের মধ্যে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। তবে, একটু খোঁজখবর নিতেই জানা গেল যে এই পুরো মামলাটা নতুন নয়, বরং ২০২৩ সালের একটি পুরনো রিপোর্ট, যা ২০২৪-এ এসে আবার ভাইরাল করে দেওয়া হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এই খবরে সেই পুরনো তথ্য আর চুক্তির বিবরণই ব্যবহার করা হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে ইন্টারনেটে যা ঘুরছে তা টাটকা খবর নয়। তাই 'বাবুরাম'-এর ফ্যানেদের ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই।
কেন ভাইরাল হল পরেশ রাওয়ালের 'হেরা ফেরি ৩' ছাড়ার খবর?
শনিবার সোশ্যাল মিডিয়া আর বেশ কিছু এন্টারটেইনমেন্ট পোর্টালে খবর আসতে শুরু করে যে, পরেশ রাওয়াল আবার 'হেরা ফেরি ৩' ছেড়ে দিয়েছেন। এই রিপোর্টগুলোতে দাবি করা হয় যে, অভিনেতা নাকি সাইনিং অ্যামাউন্ট ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং ছবি থেকে সরে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণও দিয়েছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ঠিক এই একই তথ্য এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৩ সালের মে মাসেও সামনে এসেছিল। যে বলিউড হাঙ্গামার নাম করে পরেশ রাওয়ালের আবার ছবি ছাড়ার দাবি করা হচ্ছিল, সেই সংস্থাই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের এক বছরের পুরনো খবরকেই নতুন বলে চালানো হচ্ছে। সেই সময় এই ঘটনাটা বেশ বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল এবং ফ্যানেদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছিল।
অক্ষয় কুমারের কোম্পানি মামলা করেছিল
গত বছর খবর এসেছিল যে, অক্ষয় কুমারের প্রোডাকশন কোম্পানি 'কেপ অফ গুড ফিল্মস' পরেশ রাওয়ালের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ কোটি টাকার মামলা করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ছবি ছাড়ার পর আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছিল। পরে এটাও জানা যায় যে, পরেশ রাওয়াল ১১ লক্ষ টাকার সাইনিং অ্যামাউন্ট ১৫ শতাংশ বার্ষিক সুদের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া ছবি থেকে সরে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকাও দিয়েছিলেন। কয়েক সপ্তাহ পর দুই পক্ষের মধ্যে মামলা মিটমাট হয়ে যায় এবং পরেশ রাওয়াল আবার এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হন।
পারিশ্রমিক আর পেমেন্টের শর্ত নিয়ে ছিল ঝামেলা
রিপোর্ট অনুযায়ী, 'হেরা ফেরি ৩'-এর জন্য পরেশ রাওয়ালের প্রায় ১৫ কোটি টাকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুরুতে তাঁকে মাত্র ১১ লক্ষ টাকা সাইনিং অ্যামাউন্ট হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। বাকি ১৪.৮৯ কোটি টাকা ছবি মুক্তির এক মাস পর পাওয়ার কথা ছিল। এই পেমেন্টের কাঠামো নিয়েই অভিনেতার আপত্তি ছিল বলে জানা যায়। রিপোর্টে সূত্রের বরাত দিয়ে লেখা হয়েছিল যে, ছবির শুটিং পরের বছর শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মানে হলো, 'হেরা ফেরি ৩' ২০২৬ সালের শেষে বা ২০২৭-এ মুক্তি পেত। সেক্ষেত্রে পরেশ রাওয়ালকে তাঁর বাকি টাকা পাওয়ার জন্য প্রায় দু'বছর অপেক্ষা করতে হত। সবচেয়ে বড় টুইস্ট এটাই যে, এখন ভাইরাল হওয়া খবরে সেই পুরনো লাইন আর সেই পুরনো তথ্যই ব্যবহার করা হয়েছে, যা ২০২৩ সালের রিপোর্টে ছিল। যদি এই খবর সত্যিই নতুন হতো, তাহলে ২০২৪ সালে পরেশ রাওয়ালকে তাঁর টাকার জন্য দু'বছর নয়, বরং কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতো। এই বিষয়টিই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ইন্টারনেটে ছড়ানো খবরটি পুরনো।
ফ্যানেদের কেন চিন্তা করা উচিত নয়?
'হেরা ফেরি' ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বাবুরাও গণপতরাও আপ্তের চরিত্রটি সবচেয়ে আইকনিক। তাই পরেশ রাওয়ালকে ছাড়া এই ছবির কথা ভাবাও ফ্যানেদের জন্য কঠিন। আপাতত ইন্ডাস্ট্রিতে এটাই মনে করা হচ্ছে যে, যখনই 'হেরা ফেরি ৩' তৈরি হবে, তাতে বাবুরাও অবশ্যই থাকবেন। এই কারণেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো গুজব সত্ত্বেও ফ্যানেরা এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.