Famous Directors: ক্রিস্টোফার নোলান থেকে মার্টিন স্করসেসি! ৬ জন পরিচালক যাঁরা এখন সিনেমার নতুন তারকা

Published : Sep 04, 2026, 09:20 AM IST

ক্রিস্টোফার নোলান, সঞ্জয় লীলা বনশালি থেকে মোহিত সুরি, চিনে নিন এমন ৬ জন পরিচালককে, যাঁদের নিজস্ব স্টাইল আর ফ্যানবেসের জোরে শুধু নামেই হল ভরিয়ে ফেলেন।

PREV
16
ছবির নতুন তারকা এখন পরিচালকরাই

বহু দশক ধরে সিনেমার মার্কেটিং চলেছে মূলত ছবির হিরো বা হিরোইনকে কেন্দ্র করে। চেনা মুখই ছবিকে বক্স অফিসে টানত, প্রচারের মুখও হতেন তাঁরাই। কিন্তু এই সমীকরণ এখন বদলে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের দর্শকরা এখন ক্যামেরার পেছনের মানুষটার জন্যও হলে আসছেন। কিছু পরিচালকের নামই এখন একটা ব্র্যান্ড। তাঁদের নাম শুনলেই বোঝা যায় ছবিটা কেমন হতে চলেছে—তার স্কেল, মুড, বা গল্প বলার ধরন। কখনও কখনও ছবির কাস্টিংয়ের চেয়েও পরিচালকের নাম বড় হয়ে ওঠে।

ক্রিস্টোফার নোলানের বড় পর্দার ছবি থেকে শুরু করে সঞ্জয় লীলা বনশালির জমকালো ড্রামা, এই পরিচালকরা নিজেদের একটা আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। এখানে এমন ছয়জন পরিচালকের কথা বলা হল, যাঁদের নামের জোরেই দর্শকরা হলে ভিড় জমান:

১. ক্রিস্টোফার নোলান

খুব কম পরিচালকই ক্রিস্টোফার নোলানের মতো নিজের নামকে একটা ব্র্যান্ডে পরিণত করতে পেরেছেন। নোলানের ছবি মানেই বিশাল আয়োজন, নতুন ধরনের টেকনিক আর বড় পর্দার জন্য তৈরি একটা অভিজ্ঞতা। 'দ্য ডার্ক নাইট'-এর সুপারহিরো জাঁকজমক হোক, 'ইনসেপশন'-এর জটিল গল্প, 'ইন্টারস্টেলার'-এর মহাজাগতিক বিশালতা বা 'ওপেনহাইমার'-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট—তাঁর ছবি একটা চেনা পরিচিতি নিয়েই আসে। তাঁর নতুন ছবি 'দি ওডিসি'-তে ম্যাট ডেমন, টম হল্যান্ড, অ্যান হ্যাথাওয়ে এবং জেনডায়ার মতো তারকারা থাকলেও, ছবি নিয়ে আলোচনার মূল কারণ ছিলেন নোলান নিজেই।

ভারতে এই ছবি মুক্তির প্রথম দিনেই ১৬ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করে, যা এই দেশে নোলানের সবচেয়ে বড় ওপেনিং।

26
২. সঞ্জয় লীলা বনশালি

সঞ্জয় লীলা বনশালি সিনেমার এমন এক চেনা জগত তৈরি করেছেন যে তাঁর নামটাই এখন একটা আলাদা ঘরানা হয়ে উঠেছে। তাঁর ছবি মানেই চোখ ধাঁধানো সেট, জমকালো পোশাক, অসাধারণ সঙ্গীত, আর আবেগে ভরা প্রেমকাহিনি।

'দেবদাস' থেকে 'বাজিরাও মস্তানি', 'পদ্মাবত' এবং 'গাঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি'—বনশালি এমন এক ভিজ্যুয়াল ভাষা তৈরি করেছেন যা দর্শকরা এক ঝলকেই চিনে ফেলেন। নেটফ্লিক্সে তাঁর 'হীরামান্ডি' সিরিজটি ব্যাপক আলোচনার পরেও, তাঁর পরবর্তী ছবি 'লাভ অ্যান্ড ওয়ার'-এর জন্য আগ্রহ তুঙ্গে। ছবিটি ২০২৭ সালে মুক্তি পাবে। রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট এবং ভিকি কৌশলের মতো তারকারা থাকলেও, এই ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বনশালির নাম।

36
৩. স্টিভেন স্পিলবার্গ

স্টিভেন স্পিলবার্গ কয়েক দশক ধরেই 'পরিচালক-ব্র্যান্ড'-এর মর্যাদা পেয়ে আসছেন। তাঁর নাম শুনলেই বড় মাপের গল্প, বিশেষ করে সায়েন্স ফিকশন, অ্যাডভেঞ্চার বা অচেনা জগতের কাহিনির কথা মাথায় আসে।

'ক্লোজ এনকাউন্টারস অফ দ্য থার্ড কাইন্ড' এবং 'ই.টি. দ্য এক্সট্রা-টেরিস্ট্রিয়াল' থেকে শুরু করে 'ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস' পর্যন্ত, স্পিলবার্গ বারবার দেখিয়েছেন কীভাবে বড় ভাবনাকে মূলধারার সিনেমার রূপ দেওয়া যায়। তাঁর ২০২৬ সালের ছবি 'ডিসক্লোজার ডে'-তে এমিলি ব্লান্ট, জশ ও'কনর, কোলম্যান ডমিঙ্গো এবং কলিন ফার্থের মতো তারকারা রয়েছেন। তবে ছবিটির প্রচারের মূল আকর্ষণ ছিল সায়েন্স ফিকশনে স্পিলবার্গের প্রত্যাবর্তন।

46
৪. মার্টিন স্করসেসি

মার্টিন স্করসেসির নামের ক্ষমতাটা একটু অন্যরকম। এর ভিত্তি হল শৈল্পিক বিশ্বাসযোগ্যতা, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং তাঁর অসাধারণ কাজের সম্ভার। স্করসেসির ছবি মানেই আলোচনার কেন্দ্রে। ছবির জঁর, গল্প বা বাণিজ্যিক দিক স্পষ্ট হওয়ার আগেই তাঁর নামটাই যথেষ্ট। তাঁর সাম্প্রতিক ছবি 'কিলারস অফ দ্য ফ্লাওয়ার মুন' নিয়ে আগ্রহের কারণ শুধু লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও বা রবার্ট ডি নিরোর মতো অভিনেতারাই ছিলেন না, বরং এটি স্করসেসির আরও একটি বড় কাজ। তাঁর আসন্ন ছবি 'হোয়াট হ্যাপেনস অ্যাট নাইট'-এ ডিক্যাপ্রিও এবং জেনিফার লরেন্স থাকলেও, ছবিটি নিয়ে কৌতূহলের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পরিচালক নিজেই।

56
৫. আদিত্য ধর

ভারতীয় সিনেমাতেও এমন অনেক পরিচালক নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। আদিত্য ধর সাম্প্রতিককালের অন্যতম সেরা উদাহরণ। তাঁর প্রথম ছবি 'উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক'-এর মাধ্যমে তিনি নিয়ন্ত্রিত অ্যাকশন, দেশাত্মবোধক থিম এবং টানটান চিত্রনাট্যের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন।

'ধুরন্ধর' এবং 'ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ'-এর সাফল্য তাঁর এই সুনামকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই দুটি ছবি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা আয় করেছে। ফলে আদিত্য ধর এখন আর শুধু ছবির পরিচালক নন, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

66
৬. মোহিত সুরি

মোহিত সুরি আবেগঘন রোম্যান্স, নাটকীয় সংঘাত এবং সঙ্গীত-নির্ভর গল্পের মাধ্যমে নিজের জন্য একটি আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁর নাম এখন এক বিশেষ ধরনের সিনেমার ইঙ্গিত দেয়, যা তীব্র অনুভূতি এবং মনে রাখার মতো গানের উপর ভিত্তি করে তৈরি।

'আশিকি ২' এবং 'এক ভিলেন'-এর মতো ছবিগুলি তাঁর এই পরিচয় তৈরিতে সাহায্য করেছে। ২০২৫ সালে, নতুন মুখ অহন পাণ্ডে এবং অনীত পাড্ডাকে নিয়ে তৈরি 'সাইয়ারা' বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পায়। প্রথম সপ্তাহান্তেই ছবিটি ৮৩ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করে। এই ছবির সাফল্য বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো, কারণ এটি কোনও প্রতিষ্ঠিত তারকার উপর নির্ভর করেনি। এখান থেকেই বোঝা যায়, সুরির স্টাইলের উপর দর্শকদের আস্থা কতটা।

পরিচালকই হয়ে উঠছেন নতুন তারকা

এই পরিচালকদের মধ্যে সাধারণ মিল শুধু জনপ্রিয়তা নয়, ধারাবাহিকতা। সময়ের সাথে সাথে দর্শকরা বুঝে গিয়েছেন যে তাঁদের নাম শুনলে কী আশা করা যায়—একটি নির্দিষ্ট স্কেল, টোন, ভিজ্যুয়াল বা আবেগ। এই পরিচিতি একজন বড় অভিনেতার উপস্থিতির মতোই শক্তিশালী হতে পারে।

ইন্ডাস্ট্রিতে যেখানে তারকাদের জনপ্রিয়তা এক-একটি ছবির সঙ্গে ওঠানামা করে, সেখানে একজন পরিচালকের স্বতন্ত্র পরিচয় দর্শকদের দীর্ঘস্থায়ী আস্থা তৈরি করে। পরিচালক এখন আর শুধু ক্যামেরার পেছনের মানুষটি নন। বহু দর্শকের কাছে, টিকিট কাটার জন্য পরিচালকের নামটাই এখন একটা বড় কারণ।

Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories