
ভাইরাল মুখ রিয়া আহির সলমন খানের বিগ বস ২০ থেকে বাদ পড়লেন। ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, শো-এর গ্র্যান্ড প্রিমিয়ারের দিন। দর্শকদের ভোটে লাভ গিলের কাছে হেরে যান তিনি। শো শুরু হওয়ার আগেই রিয়া বেরিয়ে যাওয়ায় এখন নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে—তিনি কি ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী হিসেবে ফিরবেন? শো-তে যোগ দেওয়ার জন্য রিয়াকে নিয়ে ব্যাপক ট্রোলিংও চলছিল।
এই সিজনে শো-এর নির্মাতারা 'ফ্যানস কা ফয়সলা' নামে একটি নতুন নিয়ম চালু করেছেন। এই নিয়মে দর্শকরাই ঠিক করতে পারেন কে বিগ বসের ঘরে ঢুকবেন। ২৭ বছর বয়সী রিয়া আহির প্রথমবার খবরের শিরোনামে আসেন ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। মুম্বইতে সিজেপি প্রতিবাদের সময় একটি পুলিশের ভ্যান আটকে দিয়ে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
দর্শকদের ভোট এবং শুরুতেই বিদায়
২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিগ বস ২০-এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই দর্শকদের ভোটে লাভ গিল ঘরে ঢোকার সুযোগ পান, আর হেরে যান রিয়া আহির। দর্শকরা JioHotstar অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দেন। জানা গেছে, সঞ্চালক সলমন খান ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। এর ফলে রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে ঢোকার আগেই শো থেকে বেরিয়ে যান।
ভোট শুরু হওয়ার আগেই প্রিমিয়ারের মঞ্চে রিয়া আর লাভের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। এই ঝগড়া প্রি-সিজন ড্রামাকে আরও উস্কে দেয়। প্রথম আলাপেই লাভ গিল রিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।
ট্রোলিং এবং ওয়াইল্ড কার্ডের জল্পনা
রিয়ার বিগ বস ২০-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়। সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তাঁকে নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক ট্রোলিং। অনেকেই তাঁর এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সমালোচকদের অভিযোগ, সিজেপি প্রতিবাদে তাঁর ভূমিকা ছিল শুধু প্রচার পাওয়ার জন্য একটি নাটক। বিগ বসে তাঁর অংশগ্রহণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই এই সমালোচনা আরও তীব্র হয়। X (আগের টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবের কমেন্ট সেকশন জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনরা তাঁকে 'ভণ্ড' বলেন। তাঁদের মতে, মুম্বইতে সিজেপি প্রতিবাদে রিয়ার যোগদান আসলে রিয়্যালিটি শো-তে খ্যাতি পাওয়ার একটা রাস্তা ছিল।
অনলাইনে ব্যবহারকারীরা এখানেই থামেননি। রিয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করতে শুরু করে। অনেকেই সামাজিক কাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই সমালোচনা প্রায়শই ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হয়, যেখানে তাঁর অতীত এবং উদ্দেশ্য নিয়ে কাটাছেঁড়া করা হয়। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সিজেপি প্রতিবাদের সময় পুলিশের ভ্যান আটকে রিয়া আহির পরিচিতি পেয়েছিলেন। আর এখন, সেই পরিচিতিই তাঁর বিরুদ্ধে যাচ্ছে। এই ব্যাপক ট্রোলিং ডিজিটাল যুগে অ্যাক্টিভিজম এবং বিনোদন জগতের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এই সমালোচনার জবাবে রিয়া বলেন, "আমি প্রথমে শো-তে আসতে দ্বিধা বোধ করছিলাম।" প্রতিবাদের পর তাঁর ওপর কিছু দায়িত্ব এসে পড়েছিল বলেও তিনি জানান। কিন্তু তাঁর এই ব্যাখ্যায় বিশেষ লাভ হয়নি। নেতিবাচক মন্তব্য চলতেই থাকে, যা শো-এর প্রিমিয়ার পর্যন্ত তাঁর ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করে।
তবে গল্প এখানেই শেষ নাও হতে পারে!
রিয়া বাদ পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। গত সিজনে শেহবাজ বাদেশা একই রকম 'ফ্যানস কা ফয়সলা' ভোটে হেরে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী হিসেবে ঘরে ফিরে আসেন। এই উদাহরণই রিয়ার সমর্থকদের মনে আশা জাগাচ্ছে যে, তিনিও সলমন খানের শো-তে ফিরতে পারেন। নেটিজেনরাও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একজন লিখেছেন, "ভাইরাল হওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা মনে হচ্ছিল, কোনও সততা ছিল না..." আরেকজন লিখেছেন, "Wildcard mein ayegi।" অন্য একজন লেখেন, "ও ওয়াইল্ড কার্ড হয়েই ঢুকবে।"
Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.