
বৃহস্পতিবার বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত। 'নাম ফাউন্ডেশন'-এর মাধ্যমে কৃষকদের জন্য নানা পাটেকরের কাজের কথা স্মরণ করেন তিনি। সাওয়ান্ত জানান, গোয়াতেও এই সমাজসেবামূলক কাজ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন অভিনেতা। কয়েক মাস আগেই এই নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাও হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নানা পাটেকর তাঁর খুব কাছের বন্ধু ছিলেন, তাই এই ক্ষতি তাঁর কাছে একেবারেই ব্যক্তিগত।
ভারতীয় সিনেমায় নানা পাটেকরের অবদানের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর সিনেমাগুলো চিরকাল মানুষের মনে থেকে যাবে। সাওয়ান্ত বলেন, "তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত অবস্থাতেই আনা হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আমি এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। গোটা দেশের পাশাপাশি মহারাষ্ট্র এবং গোয়ার জন্যও এটা একটা বিরাট ক্ষতি। দুর্দান্ত অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন বড় মাপের সমাজসেবীও ছিলেন। তিনি আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন, তাই এটা আমার ব্যক্তিগত ক্ষতিও। 'ক্রান্তিবীর' থেকে 'নটসম্রাট'-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি বিশাল অবদান রেখেছেন। তাঁর কাজ মানুষ ভীষণ ভালোবাসতেন।"
বর্ষীয়ান এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসন তাঁর পরিবারের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখছে। যা যা সাহায্য লাগবে, সব করা হবে। তিনি বলেন, "আমি তাঁর পরিবারের এই কঠিন সময়ে পাশে আছি। বর্তমানে তাঁর মৃতদেহ গোয়া মেডিক্যাল কলেজে রাখা আছে। আমি ইতিমধ্যেই প্রশাসনকে জানিয়েছি, তারা পরিবারের সঙ্গে কথা বলছে। গোয়া থেকে মৃতদেহ যেখানে নিয়ে যেতে চাইবে পরিবার, গোয়া সরকার সবরকম সাহায্য করবে। যতদূর খবর পেয়েছি, ওঁরা মৃতদেহ পুনেতে নিয়ে যাবেন। আমি আবারও তাঁর পরিবার এবং অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।"
অভিনেতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "নানা আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। যখনই গোয়ায় আসতেন, নিজে থেকে ফোন করতেন। অনেকবার আমার সরকারি বাসভবনে এসে দেখাও করে গেছেন।"
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সিনেমার পাশাপাশি সমাজসেবার কাজেও নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন নানা পাটেকর। গোয়াতেও তিনি নাম ফাউন্ডেশনের কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই সব শেষ। সাওয়ান্ত বলেন, "নাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি কৃষক এবং সমাজের অন্যান্য স্তরের মানুষের জন্য প্রচুর কাজ করেছেন। গোয়াতেও তিনি এই কাজ করতে চেয়েছিলেন। কয়েক মাস আগেই আমাদের এই নিয়ে কথা হয়। কিন্তু খুব দুঃখের বিষয়, কাজটা আর এগোলো না, আর তিনি গোয়াতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। আমার খুব খারাপ লাগছে কারণ তিনি আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন।"
হিন্দি এবং মারাঠি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন নানা পাটেকর। ১৯৭৮ সালে 'গমন' সিনেমার মাধ্যমে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু। এরপর 'পরিন্দা', 'প্রহার', 'অঙ্গার', 'ক্রান্তিবীর', 'তিরঙ্গা', 'খামোশি' এবং 'অব তক ছপ্পন'-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি চুটিয়ে অভিনয় করছিলেন। অক্ষয় কুমার, অভিষেক বচ্চন, রীতেশ দেশমুখ অভিনীত 'হাউসফুল ৫'-এও তিনি ছিলেন। ৭৫ বছর বয়সী এই অভিনেতাকে বিশাল ভরদ্বাজের 'ও রোমিও' সিনেমাতেও পুলিশ অফিসারের চরিত্রে দেখা যাবে, যেখানে শাহিদ কাপুর এবং তৃপ্তি দিমরি রয়েছেন। অনিল কাপুর এবং রাধিকা মদন অভিনীত 'সুবেদার' সিনেমাতেও তাঁর একটি ক্যামিও চরিত্র রয়েছে। (এএনআই)
Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.