
যশের ডবল রোলের ছবি 'টক্সিক: এ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস' মুক্তি পেয়েছে বুধবার, ২৬ আগস্ট। গীতু মোহনদাসের পরিচালনায় এই পিরিয়ড গ্যাংস্টার ড্রামা নিয়ে একদিকে যেমন প্রচুর আলোচনা হচ্ছে, তেমনই ছবির গল্প আর ট্রিটমেন্ট নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মতভেদও তৈরি হয়েছে।
ছবির গল্প মূলত অপরাধ, পরিবার, বিশ্বাসঘাতকতা আর প্রতিশোধকে কেন্দ্র করে বোনা হয়েছে। গল্পের একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে রায়া আর তার ছেলে টিকেটের জটিল সম্পর্ক। বাবার সিদ্ধান্তের জেরে তৈরি হওয়া ক্ষত বয়ে বেড়ায় ছেলে।
এই ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ যশের ডবল রোল। অভিনেতা এখানে একদিকে যেমন শক্তিশালী আর নিষ্ঠুর রায়ার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তেমনই তার ছেলে টিকেটের ভূমিকাতেও রয়েছেন। বাবার সিদ্ধান্তের কারণেই টিকেটের জীবনটা অন্য খাতে বয়ে যায়।
রায়া তার স্ত্রী নাদিয়া আর সদ্যোজাত ছেলে টিকেটকে গোয়ার এক বস্তিতে ফেলে চলে যায়। নিজের সম্পদ আর সাম্রাজ্য বাঁচাতেই সে এই সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পরিবারকে ছেড়ে যাওয়ার এই সিদ্ধান্তের ফল তাকে পরে ভুগতে হয়।
কিয়ারা আদবানি অভিনীত নাদিয়া একাই টিকেটকে বড় করে তোলে। ছেলেকে অসহায় হতে না দিয়ে, সে তাকে এমনভাবে তৈরি করে যাতে সে তাদের এই পরিণতির জন্য দায়ী লোকটির মুখোমুখি হতে পারে। এর ফলেই ছবির মূল সংঘাত তৈরি হয়। ছেলে শুধু বাবার মুখোমুখি হতে চায় না, বরং তার সহ্য করা সমস্ত কষ্টের জন্য বাবাকে শাস্তিও দিতে চায়।
টিকেট যখন রায়ার জীবনে ফিরে আসে, তখন তার উদ্দেশ্য শুধু প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়েও অনেক বেশি জটিল। রায়ার অবহেলার মানসিক যন্ত্রণা নিয়েই সে বড় হয়েছে। তাই তার ফিরে আসার পিছনে বাবার তৈরি করা সাম্রাজ্য আর ক্ষমতাকে ধ্বংস করার একটা বড় ইচ্ছেও কাজ করে।
বাবা-ছেলের এই লড়াই আরও তীব্র হয় যখন টিকেট ধীরে ধীরে রায়ার কাছাকাছি পৌঁছায়। ছবিটা তাদের সম্পর্ককে একটা হিংসার চক্র হিসেবে দেখায়, যেখানে টিকেট সেই দুনিয়াটাকেই ধ্বংস করতে চায় যা একসময় তার বাবার ছিল। এই সংঘাতে নাদিয়ার উপস্থিতি একটা অন্য আবেগ যোগ করে। রায়ার সিদ্ধান্তে তার জীবনটা বদলে গিয়েছে, আর সেই সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করে বড় হয়েছে টিকেট।
অন্যদিকে, নয়নতারা, কিয়ারা আদবানি, তারা সুতারিয়া, হুমা কুরেশি এবং রুক্মিণী বসন্তের মতো তারকাদের নিয়ে তৈরি ছবির বাকি চরিত্ররা রায়া আর টিকেটের চারপাশের জগতটাকে আরও বড় করে তোলে।
ছবির ক্লাইম্যাক্সে রায়া আর টিকেট এক ভয়ঙ্কর লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়। টিকেট অবশেষে সেই বাবার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পায়, যাকে সে বছরের পর বছর ধরে ঘৃণা করে এসেছে। এই লড়াই হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। টিকেট একটি ছুরি দিয়ে বারবার রায়ার উপর হামলা করে। তার এই কাজটা আসলে সারাজীবন ধরে জমে থাকা রাগ আর যন্ত্রণার প্রতিফলন। কিন্তু শেষটা শুধু টিকেট রায়াকে খুন করতে পারল কি না, তা নিয়ে নয়। আসল প্রশ্ন হল, প্রতিশোধ নিতে গিয়ে টিকেট নিজে কী হয়ে উঠছে।
টিকেট সারাজীবন রায়াকে আর তার আদর্শকে ঘৃণা করেছে। কিন্তু হিংসা যত বাড়তে থাকে, সে ততই সেই মানুষটার মতো হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে পড়ে, যাকে সে ধ্বংস করতে চায়। এটাই ক্লাইম্যাক্সকে একটা সাধারণ প্রতিশোধের গল্পের চেয়েও বেশি জটিল করে তোলে। তাই ক্লাইম্যাক্স দুটো স্তরে কাজ করে: একদিকে রায়ার সঙ্গে টিকেটের শারীরিক লড়াই, আর অন্যদিকে তার ভেতরের লড়াই—প্রতিশোধ তাকে তার বাবার মতোই আর এক অন্ধকার মানুষে পরিণত করবে কি না।
ছবিটি এই রূপান্তরকেই তার ক্লাইম্যাক্সের কেন্দ্রে রেখেছে। টিকেট হয়তো রায়ার সঙ্গে লড়ছে, কিন্তু সে আসলে সেই একই অন্ধকারের উত্তরাধিকারী হওয়ার সম্ভাবনার বিরুদ্ধেও লড়ছে।
Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.