
মন্দিরের সামনে ট্রাকের ধাক্কায় মৃত্যু হল ১৫ জনের। রবিবার ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে। ধান বোঝাই একটি ট্রাক পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শীতলা মাতা মন্দিরের দিকে যাওয়া ভক্তদের মাঝে ঢুকে যায়। অন্তত ১৫ জন নিহত হন এবং আরও ২৪ জন আহত হন। ঘটনাটি ঘটে রাত দেড়টার দিকে ছিনোর (Chhinor) রাস্তায়, যেখানে খাড়া ঢাল থাকার কারণে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাকটিকে রাস্তায় থামানো হয়েছিল, কিন্তু সেটি ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাল বেয়ে নীচে নেমে মন্দিরের বাইরের দেওয়াল ও গেটে গিয়ে ধাক্কা খায়। এ সময় রাস্তায় হেঁটে যাওয়া ভক্তরা ট্রাকটির নীচে চাপা পড়েন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর মোট ৩৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যার মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের হাড় ভেঙে গেছে। অন্যরা সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। একজন পুলিশ কর্তা বলেন, “এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। অনেক তীর্থযাত্রী শীতলা মাতা মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন। ছিনোর দিক থেকে আসা রাস্তায় একটি খাড়া ঢাল রয়েছে, যেখানে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আছে। রাত দেড়টার দিকে ধান বোঝাই একটি ট্রাককে সেখানে থামানো হয়েছিল। সেটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে, হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নীচে নেমে আসে এবং মন্দিরের বাইরের দেওয়াল ও গেটে ধাক্কা খায়।” তিনি আরও জানান, রাস্তায় থাকা ভক্তরা ট্রাকের নীচে চাপা পড়েন, যার ফলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, দুই পুলিশ সদস্য-সহ আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গোয়ালিয়রের কালেক্টর রুচিকা চৌহান জানিয়েছেন, রাত দেড়টার দিকে প্রশাসন দুর্ঘটনার খবর পায় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। তিনি বলেন, “আজ রাত দেড়টার দিকে খবর আসে যে, ছিনোর দিক থেকে মন্দিরের অভিমুখে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ক্রমাগত বাম দিকে সরে যেতে থাকে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহন ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।” জেলা কালেক্টর জানান, নবরাত্রি উপলক্ষে ওই এলাকায় ব্যারিকেড বসানো ছিল এবং পুলিশের একটি তল্লাশি চৌকিও ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাকটি কীভাবে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করল, তা খতিয়ে দেখা হবে।
ট্রাকটি হঠাৎ এলাকায় ঢুকে মানুষ ও দোকানপাটের উপর দিয়ে চলে যাওয়ার পর সেখানে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা তুলে ধরেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। এএনআই (ANI)-কে ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “ঘটনাটি ঘটে রাত ১টার দিকে। আমি কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই মারা যেতে দেখেছি। ট্রাকটিতে অতিরিক্ত বোঝা ছিল। সেটি হঠাৎ চলে আসে এবং বেশ কয়েকটি দোকান ও মানুষের উপর দিয়ে উঠে যায়।” তিনি আরও জানান, এই দুর্ঘটনায় তাঁর ভাইও আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে তখন চরম বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
ট্রাকটি কীভাবে ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢুকল, কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারাল এবং মন্দিরের চত্বরে গিয়ে ধাক্কা খেল—সেসব বিষয় এখন তদন্তাধীন। যান্ত্রিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে, ট্রাকটির কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি এই দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না। ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ গোয়ালিয়রের ময়নাতদন্ত কেন্দ্রে পৌঁছনোর পর সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতদের স্বজনরা পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে সেখানে হট্টগোল শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। শোকাতুর স্বজনরা পুরো ঘটনাটি যেভাবে সামলানো হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ময়নাতদন্ত কেন্দ্রে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।