
8th Pay Commission: কেন্দ্রীয় সরকার ৩ নভেম্বর, ২০২৫-এ অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করে। এটি একটি অস্থায়ী সংস্থা যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। বর্তমানে, কমিশন তার নির্ধারিত ১৮ মাসের মেয়াদের মধ্যে ১০ মাসেরও বেশি সময় পার করেছে, এই সময়ের মধ্যেই তাদের বেতন, ভাতা এবং পেনশন সংশোধনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
চেন্নাইতে শুরু হতে যাওয়া বৈঠক এবং এরপর পুদুচেরি, চণ্ডীগড় ও বেঙ্গালুরুতে (যথাক্রমে ৯ সেপ্টেম্বর, ১৬ সেপ্টেম্বর ও ৭ অক্টোবর থেকে) অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকগুলো পেনশন-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সংগঠন অবসরকালীন সুবিধাদির ক্ষেত্রে অর্থ- বহ পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে।
স্বনামধন্য ইউনিয়ন ও পেনশনভোগী সংগঠনগুলোর অন্যতম প্রধান দাবি হলো ‘পুরানো পেনশন স্কিম’ (OPS)-এর আওতায় পেনশনের পরিমাণ শেষ প্রাপ্ত বেতনের ৫০% থেকে বাড়িয়ে ৬৭%-এ উন্নীত করা। এছাড়া কিছু সংগঠন শেষ বেতনের ৫০%-এর সমপরিমাণ পারিবারিক পেনশনেরও দাবি জানিয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো বেসামরিক পেনশনভোগীদের জন্যও ‘ওয়ান র্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশন’ (OROP)-এর মতো সুবিধা প্রদান করা। তবে, অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ—যার মধ্যে প্যানেল কর্তৃক নির্ধারিত ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’-ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে—এই বিষয়গুলোর সুরাহা বা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আজ ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি; অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি সম্ভাব্যভাবে ২০২৭ সালের মে-জুন নাগাদ পেশ করা হতে পারে।
বর্তমানে লেভেল ৪ থেকে ৭-এর কর্মচারীরা কত পেনশন পান?
এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় পেনশন সাধারণত শেষ প্রাপ্ত মূল বেতন (basic pay) অথবা চাকরির শেষ ১০ মাসের গড় মূল বেতনের—এর মধ্যে যেটি বেশি—তার ৫০% হিসেবে গণনা করা হয়।
প্রতিটি স্তরের (লেভেল) ন্যূনতম মূল বেতনের (basic pay) ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট ন্যূনতম পেনশনের বিষয়টি নিচে আলোচনা করা হলো:
বেতন স্তর (Pay Level)
সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে ন্যূনতম মূল বেতন
ন্যূনতম মূল পেনশন
লেভেল ৪ ₹২৫,৫০০ ₹১২,৭৫০
লেভেল ৫ ₹২৯,২০০ ₹১৪,৬০০
লেভেল ৬ ₹৩৫,৪০০ ₹১৭,৭০০
লেভেল ৭ ₹৪৪,৯০০ ₹২২,৪৫০
উদাহরণস্বরূপ, যদি বর্তমান মূল পেনশনকে ২.১৫, ২.২৮ এবং ২.৫৭—এই সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরগুলো দিয়ে গুণ করা হয়, তবে আনুমানিক ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। হিসাবগুলো নিচে দেওয়া হলো:
বেতন স্তর ২.১৫ হারে ২.২৮ হারে
২.৫৭ হারে
লেভেল ৪ ₹২৭,৪১৩ ₹২৯,০৭০ ₹৩২,৭৬৮
লেভেল ৫ ₹৩১,৩৯০ ₹৩৩,২৮৮ ₹৩৭,৫২২
লেভেল ৬ ₹৩৮,০৫৫ ₹৪০,৩৫৬ ₹৪৫,৪৮৯
লেভেল ৭ ₹৪৮,২৬৮ ₹৫১,১৮৬ ₹৫৭,৬৯৭
দ্রষ্টব্য: এই হিসাবগুলো কেবল উদাহরণস্বরূপ; অষ্টম বেতন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ঘোষিত হওয়ার পরেই চূড়ান্ত ও সঠিক হিসাব করা সম্ভব হবে।
সুতরাং, এটি স্পষ্ট যে অষ্টম বেতন কমিশনের জন্য ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (যা সপ্তম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রেও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়েছিল) বিবেচনা করলে, লেভেল ৭-এর একজন কর্মীর ন্যূনতম পেনশন ₹২২,৪৫০ থেকে বেড়ে প্রায় ₹৫৭,৬৯৭—অর্থাৎ মাসে প্রায় ₹৫৮,০০০—হতে পারে।
এবার ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল – জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি’ (NC-JCM), ‘অল ইন্ডিয়া ডিফেন্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশন’ (AIDEF) এবং ‘ভারতীয় প্রতিরক্ষা মজদুর সংঘ’ (BPMS)-এর মতো সংগঠনগুলো আরও বেশি ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’-এর দাবি জানাচ্ছে। কেউ কেউ ৩.৮ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত গুণক (মাল্টিপল) বা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
তবে এই মুহূর্তে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে, এগুলো কেবল সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ওপর ভিত্তি করে করা হিসাব-নিকাশ মাত্র। পেনশনের প্রকৃত সংশোধনের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ এবং এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।
ততদিন পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও বর্তমান কর্মীদের আনুষ্ঠানিক কাঠামো বা নির্দেশিকা প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে—যার মাধ্যমে জানা যাবে যে তাঁদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা আসলে কতটা বাড়তে পারে। তাই আপাতত এই হিসাবগুলোকে কেবলই অনুমান হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।