
8th Pay Commission: উত্তরপ্রদেশের শামলীতে মঙ্গলবার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও পেনশনভোগীরা কালেক্টরেট চত্বরে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের দাবি ছিল, ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে অবসর নেওয়া সরকারি কর্মীদেরও যেন অষ্টম বেতন কমিশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও পেনশনভোগীদের সংগঠন ১২ দফা দাবি উত্থাপন করে এবং জেলাশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়।
'দৈনিক ভাস্কর'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর প্রবীণ পেনশনভোগীদের সুযোগ-সুবিধা বা অবস্থান নিয়ে অস্পষ্টতার বিষয়টি তুলে ধরেন। সংগঠনের যুক্তি ছিল, আগের বেতন কমিশনগুলোতে অবসরের তারিখের ভিত্তিতে কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে এমন কোনও বৈষম্য করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংগঠনটি দাবি জানিয়েছে যে অবসরের তারিখের ভিত্তিতে কোনও বৈষম্য করা চলবে না এবং প্রবীণ অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনেরও সংশোধন করতে হবে। এছাড়া তারা পুরনো পেনশন ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং পেনশনের আয়ের ওপর কর মওকুফের দাবিও জানিয়েছে।
অন্যান্য প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে ৬৫ বছর বয়সের পর প্রতি ৫ বছরে পেনশনের পরিমাণ ৫% বৃদ্ধি এবং ১০ বছর পর পেনশন 'কমিউটেশন' (এককালীন অগ্রিম গ্রহণ) সংক্রান্ত কর্তন বন্ধ করা। পাশাপাশি, কোভিড-১৯ অতিমারির সময় আটকে থাকা ১৮ মাসের মহার্ঘ ভাতা/মহার্ঘ ত্রাণ (DA/DR)-এর বকেয়া অর্থ প্রদানের দাবিও জানিয়েছেন পেনশনভোগীরা।
স্মারকলিপিতে ৫০ শতাংশের বেশি মহার্ঘ ভাতা মূল পেনশনের সঙ্গে একীভূত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বেতন কমিশন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি কর্মী, শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তিদায়ক ব্যবস্থার (interim relief) দাবিও জানিয়েছে।
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য রেল ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় এবং 'আয়ুষ্মান ভারত' প্রকল্পের আওতায় ক্যাশলেস চিকিৎসার সীমা বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন পেনশনভোগীরা। এছাড়া তাঁরা একটি 'প্রবীণ নাগরিক কমিশন' গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
সংগঠনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তাঁদের দাবিসমূহ সম্বলিত স্বাক্ষর-সমর্থিত আবেদনপত্র আগেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের মূল লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি বৈধ উপায়ে নিজেদের দাবি আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের প্রধান দাবিগুলো সংক্ষেপে নিচে আলোচনা করা হলো:
ক্রমিক নং দাবি এর অর্থ (প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী)
7. ১০ বছর পর পেনশন কমিউটেশন বাবদ কর্তন বন্ধ করা কমিউটেড পেনশন (এককালীন অগ্রিম পেনশন) সংক্রান্ত কর্তন বা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ১০ বছর পর বন্ধ করা উচিত।
8. কোভিডকালীন ১৮ মাসের ডিএ/ডিআর (DA/DR) বকেয়া প্রদান কোভিড চলাকালীন আটকে রাখা ১৮ মাসের ডিএ (DA) বা ডিআর (DR) প্রদানের দাবি জানাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্তরা।
9. ৫০%-এর বেশি ডিএ (DA)-কে মূল পেনশনের সাথে একীভূত করা সংগঠনটি চায় ৫০%-এর বেশি ডিএ-কে মূল পেনশনের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হোক।
10. অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি বা সুবিধা প্রদান বেতন কমিশনের প্রক্রিয়া চলাকালীন কর্মচারী, শিক্ষক এবং অবসরপ্রাপ্তদের অন্তর্বর্তীকালীন সুবিধা প্রদান করা উচিত।
11. প্রবীণ নাগরিকদের জন্য রেলভাড়ায় ৫০% ছাড় প্রবীণ নাগরিকদের রেলভাড়ায় ৫০% ছাড় দেওয়া উচিত।
12. আয়ুষ্মান ভারত ক্যাশলেস চিকিৎসার সীমা ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অধীনে ক্যাশলেস স্বাস্থ্যসেবার সীমা বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা করা উচিত।
দ্রষ্টব্য: এই ১২টি দাবি 'শামলী রিটায়ার্ড এমপ্লয়িজ অ্যান্ড পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশন'-এর পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে (সূত্র: দৈনিক ভাস্কর)। এগুলি অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ বা সরকারি সিদ্ধান্তের দ্বারা অনুমোদিত নয়।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্যানেল কি এই দাবিগুলো বিবেচনা করবে? অষ্টম বেতন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই বিষয়টি জানা যাবে।
অষ্টম বেতন কমিশন হলো তিন সদস্যের একটি কমিশন। এটি একটি অস্থায়ী সংস্থা। বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই এর নেতৃত্বে রয়েছেন। কমিশনটি ৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে গঠিত হয়েছিল এবং কার্যপরিধি অনুযায়ী, গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তাই, কমিশন যদি অতিরিক্ত সময় না চায়, তবে ধারণা করা হচ্ছে যে ২০২৭ সালের মে-জুন মাসে অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি পেশ করা হবে।