
Ashok Mittal Joins BJP: শুক্রবার আম আদমি পার্টিতে (আপ) বড়সড় রাজনৈতিক ভূমিকম্প। রাজ্যসভা সাংসদ রাঘব চাড্ডার দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেওয়ার জল্পনার মধ্যেই সামনে এল আরও এক চমকে দেওয়া নাম—অশোক মিত্তাল। এই অশোক মিত্তালকেই কিন্তু ২ এপ্রিল, ২০২৬-এ রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে রাজ্যসভায় আপের ডেপুটি লিডার (উপনেতা) বানিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তিনিও দল ছাড়লেন এবং রাঘবের সঙ্গেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ঘটনায় আপের অন্দরের রাজনীতি এবং নেতৃত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
মাত্র ১৫ দিন আগেই, অর্থাৎ ২ এপ্রিল, ২০২৬-এ, আপ সরকারিভাবে রাজ্যসভা সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে রাঘব চাড্ডাকে উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে অশোক মিত্তালকে নিয়োগ করার কথা জানায়। সেদিন সন্ধ্যার মধ্যেই রাজ্যসভার ওয়েবসাইটেও এই বদল নথিভুক্ত হয়ে যায়। রাজনৈতিক মহলে অনেকেই এটাকে রাঘবের ক্ষমতা কমানোর একটা চাল হিসেবে দেখছিলেন। কিন্তু মাত্র ১৫ দিনের মাথায় মিত্তালের দলত্যাগ আপের জন্য আরও বড় ধাক্কা হয়ে এল।
অশোক মিত্তাল পাঞ্জাব থেকে রাজ্যসভার সাংসদ। তিনি দেশের অন্যতম বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি (LPU)-র প্রতিষ্ঠাতা ও চ্যান্সেলর। শিক্ষা এবং শিল্প জগতে তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। আপ তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে পাঞ্জাবে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি বাড়াতে চেয়েছিল। এখন তাঁর দলত্যাগ সরাসরি পাঞ্জাবের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
গত ১৫ এপ্রিল, ২০২৬-এ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) অশোক মিত্তালের একাধিক ঠিকানায় হানা দেয়। ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA) লঙ্ঘনের অভিযোগে এই তল্লাশি চালানো হয়।
ইডি জলন্ধরে তাঁর বাড়ি, এলপিইউ ক্যাম্পাস এবং অন্যান্য জায়গায় হানা দেয়। এই তল্লাশি প্রায় তিন দিন ধরে চলে এবং ১৭ এপ্রিল শেষ হয়। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল যে দলের অন্দরে বড় কিছু ঘটতে চলেছে। এবার ২৪ এপ্রিল তাঁর আপ ছাড়ার খবরে সেই জল্পনাই সত্যি হল।
বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত আপের মোট ৭ জন রাজ্যসভা সাংসদ দল ছেড়েছেন বা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পথে। এই তালিকায় রাঘব চাড্ডা, অশোক মিত্তাল, হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, রাজেন্দ্র গুপ্তা, সন্দীপ পাঠক এবং বিক্রমজিৎ সাহানির নাম রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এই দলবদল যদি সত্যি হয়, তবে রাজ্যসভায় আপের শক্তি অনেকটাই কমে যাবে।
এই পুরো ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, "বিজেপি আবার পাঞ্জাবিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল।" তাঁর ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল যে পাঞ্জাবের নেতাদের নিজেদের দলে টেনে বিজেপি রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে চাইছে।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানও এই বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। দলত্যাগী নেতাদের তিনি “গদ্দার” বলে আক্রমণ করেন। মান বলেন, "বিজেপির বরাবরই পাঞ্জাব আর পাঞ্জাবিদের নিয়ে সমস্যা। প্রথমে RDF আটকেছে, তারপর বিধায়কদের নিশানা করেছে, আর এখন সাংসদদের নিজেদের দিকে টেনে পাঞ্জাবের পিঠে ছুরি মারল।" তিনি আরও বলেন যে পাঞ্জাবে বিজেপির কোনও জনভিত্তি নেই, তাই তারা আপের জনভিত্তি ভাঙার চেষ্টা করছে।
রাঘব চাড্ডা এবং অশোক মিত্তালের মতো বড় নেতাদের একসঙ্গে দলত্যাগ আপের জন্য শুধু রাজনৈতিক ক্ষতি নয়, এটা একটা সাংগঠনিক সংকটও বটে। যাঁকে দায়িত্ব দিয়ে আনা হল, তিনিই যদি দল ছেড়ে দেন, তাহলে এটা স্পষ্ট যে দলের অন্দরে অসন্তোষ চরমে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, এটাই কি শুধু শুরু, নাকি আপের ভেতর থেকে আরও বড় নাম বেরিয়ে আসতে চলেছে?