
শনিবার দিল্লি বিমান বন্দরে নামার আগেই আটক করা হয়েছিল সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপককে। তারপরে দিল্লি পুলিশই তাঁকে অজ্ঞাত কোনও স্থানে নিয়ে যায়। ততক্ষণে প্রায় গোটা দেশই জেনে গিয়েছিল অভিজিতের ঠাকুমা প্রয়াত। অজ্ঞাত স্থানেই অভিজিতকে দেওয়া হয়েছিল তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর। যা নিয়ে রীতিমত বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শেষপর্যন্ত সেই ভিডিও প্রকাশ করে দিল্লি পুলিশ। তেমনয়ই দাবি করেছে একটি সোশ্যাল মিডিয়ার এক্স।
News Algebra নামে এক গ্রাহক তাদের এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করেছে। সেখানেই দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দিপকেকে নিয়ে এই ভিডিওটি রিলিজ করেছে। যেখানে আটক অভিজিৎ দিপকেকে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। প্রথমে এক মহিলা পুলিশ কর্মী ঠাকুমা প্রয়াত হওয়ার খবর দেয়। তারপরে এক আধিকারিকও তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।
BIG BREAKING 🚨 Delhi Police releases Dipke's video.
Cops informed Abhijeet Dipke about passing away of his grandmother and asking him if he wants to speak to his parents. Dipke denied speaking to them. https://t.co/hAXcd7l1Ne
— News Algebra (@NewsAlgebraIND) October 11, 2026
যদিও এই ভিডিওর সত্যতা স্বীকার করেনি এশিয়ানেট নিউজ বাংলা
অভিজিৎ দিপকেকে আটক করার পর তাঁর জীবনে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সেই সময়ে পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, সেটাও স্পষ্ট করেছেন ডিসিপি। পুলিশ আধিকারিকরা অভিজিৎ দীপকের ঠাকুমার মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর কাছে যান। তাঁরা তাঁকে এই দুঃসংবাদ দেন এবং সবরকম সাহায্যের প্রস্তাব দেন।
ডিসিপি যাদব বলেন, "সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের ঠাকুমার মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই দিল্লি পুলিশের আধিকারিকরা তাঁর কাছে যান। তাঁকে খবরটি দেওয়া হয় এবং সবরকম সাহায্যের কথা বলা হয়। ফ্লাইট বুকিং, ফোন করা বা অন্য কোনও সাহায্য লাগবে কি না, তা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চান কি না, সেটাও বারবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি রাজি হননি।" পুলিশ তাঁকে যাতায়াত বা যোগাযোগের বিষয়ে সাহায্য করতে চাইলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন।
অভিজিৎ ডিপকে তাঁর ঠাকুমার শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারলেন না। তাঁর পরিবার এর জন্য দিল্লি পুলিশের দিকেই আঙুল তুলেছে। রবিবার অভিজিতের বাবা-মা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, পুলিশ একটু মানবিক হলে তাঁদের ছেলে অন্তত ঠাকুমাকে শেষবার দেখার সুযোগ পেত। অভিজিতের বাবা ভগবান ডিপকে মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে বসে বলেন, "দিল্লি পুলিশ যদি ওকে সময়মতো ছেড়ে দিত, বা অন্তত শেষকৃত্যের পর আবার দিল্লিতে ফিরে যাওয়ার শর্তেও ছাড়ত, তাহলেও ও ঠাকুমাকে শেষবার দেখতে পারত।" তিনি আরও জানান, ছেলে যে নাগপুরে পৌঁছেছে, তা তিনি ইনস্টাগ্রামে দেখেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের উচিত ছিল হয় কিছু বিষয় গোপন রাখা, নয়তো ঠাকুমাকে শেষবার দেখার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া। তিনি বলেন, "পুলিশ ভুল করেছে। যে বিষয়গুলো সামনে আনার কথা নয়, সেগুলো বলা উচিত হয়নি। আর যদি বলেই থাকে, তবে অন্তত ঠাকুমাকে শেষবার দেখার জন্য একটু সময় দেওয়া উচিত ছিল।"
অভিজিতের মা অনিতা ডিপকেও চরম হতাশ। তিনি জানান, শনিবার রাতেই মুম্বই থেকে হিঙ্গোলিতে আসার কথা ছিল ছেলের। তিনি বলেন, "দিল্লি পুলিশের উচিত ছিল ওকে আগেই ছেড়ে দেওয়া। গতকাল রাতেই ওর মুম্বই থেকে সোজা এখানে আসার কথা ছিল।" অনিতা আরও বলেন, ছেলে আগে ছাড়া পেলে ঠিকই শেষকৃত্যে থাকতে পারত। পুলিশের অন্তত পরিবারের এই শোকের কথা ভাবা উচিত ছিল। তাঁর আক্ষেপ, "এমন একটা মর্মান্তিক ঘটনায় দিল্লি পুলিশ একটু মানবিক হয়ে ওকে ছেড়ে দিলে আমরাও একটু শান্তি পেতাম।"