
Ahmedabad Railway Porter: কুলি থেকে কোটিপতি! আমেদাবাদের রেলস্টেশনে কুলি হিসেবে কাজ করতেন। আয়ের উৎসও ছিল সেটুকুই। অথচ তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর নামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। সেই সম্পত্তির হদিশ পেয়েই এবার বড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। অভিযুক্ত রেলকর্মীর প্রায় ২ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম প্রশান্ত বালদেভভাই রাবারি, যিনি প্রশান্ত ওরফে টিনো বালদেভভাই রাবারি নামেও পরিচিত। তিনি পশ্চিম রেলের অধীনে আমেদাবাদ রেলস্টেশনের সবরমতী এলাকায় কুলি হিসেবে কাজ করতে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্ত প্রশান্ত বালদেভভাই রাবারি দুর্নীতি এবং বেআইনি উপায়ে বিপুল সম্পদের মালিক হন। রেলস্টেশনে কুলি হিসেবে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর পরিচিত আয়ের উৎসের তুলনায় বহু গুণ বেশি সম্পত্তি গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে তিনি কোটি কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি কিনেছিলেন।
এই মামলার সূত্রপাত গুজরাত পুলিশের একটি এফআইআর থেকে। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলাকেই অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ), ২০০২-এর অধীনে 'সিডিউলড অফেন্স' হিসেবে ধরে তদন্ত শুরু করে ইডি। ইডির দাবি, ২০১৭ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্দিষ্ট তদন্তকালীন সময়ে রাবারি প্রায় ২.৫৮ কোটি টাকার অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তি গড়ে তোলেন। অর্থাৎ তাঁর পরিচিত ও বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে এই বিপুল সম্পদের কোনও সামঞ্জস্য ছিল না। তদন্তকারীদের মতে, রেলস্টেশনে কর্মরত অবস্থায় দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থই পরে বিভিন্ন সম্পত্তি কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়।
ইডির তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থকে বিভিন্ন অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। শুধু নিজের নামেই নয়, অভিযুক্তের স্ত্রী আমুলবেন প্রশান্তভাই রাবারির নামেও একাধিক সম্পত্তি কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। আর্থিক লেনদেনের নথি, সম্পত্তি ক্রয়ের তথ্য এবং অর্থের উৎস খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বলে দাবি সংস্থার।
এরপর আর্থিক লেনদেনের সম্পূর্ণ ট্রেল অনুসরণ করে ইডির আমেদাবাদ জোনাল অফিস প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের একাধিক স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ জারি করে। সংস্থার দাবি, এই সম্পত্তিগুলি সরাসরি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করেই কেনা হয়েছিল। প্রভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট অর্ডার জারি হওয়ায় আপাতত ওই সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনওভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
একজন কুলির কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ মেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইডি জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। এই বিপুল অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কার মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং সম্পদ গোপন করতে কোনও আর্থিক নেটওয়ার্ক বা মধ্যস্থতাকারী ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, সামনে আরও সম্পত্তির খোঁজ মিলতে পারে।