
দেশজুড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের টানাপোড়েনের মাঝেই অবৈধ মজুতের অভিযোগে মধ্যপ্রদেশে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বাড়িতে হানা দিল প্রশাসন। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে মোট ২৫টি গ্যাস সিলিন্ডার। ঘটনাটি ঘটেছে ছাতারপুর জেলার বিশ্বনাথ কলোনিতে। শহরের ওয়ার্ড নম্বর ৩-এ ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বাড়িতে বুধবার গভীর রাতে অভিযান চালায় প্রশাসনের যৌথ দল। অভিযানে ছিলেন খাদ্য দফতরের আধিকারিক, কোতওয়ালি পুলিশের বিশেষ বাহিনী। তল্লাশির সময় বাড়ি থেকে মোট ২৫টি ডোমেস্টিক এলপিজি সিলিন্ডার উদ্ধার হয়।
প্রশাসনের দাবি, উদ্ধার হওয়া সিলিন্ডারের মধ্যে তিনটি ভর্তি ছিল এবং বাকি ২২টি খালি। এত সংখ্যক সিলিন্ডার বাড়িতে মজুত থাকার কারণ নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, অনুমোদিত সীমার বেশি সিলিন্ডার মজুত করে রাখা হয়েছিল। কালোবাজারির সঙ্গেও যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া সব সিলিন্ডারই বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন। কোথা থেকে এই সিলিন্ডারগুলি আনা হয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে দেশজুড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান কমে যাওয়ায় বহু জায়গায় সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। সময়মতো রিফিল না পাওয়ায় বাড়ি, হোটেল ও রেস্তোরাঁ সব জায়গাতেই প্রভাব পড়ছে।
সরকার ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। গৃহস্থালি বা ডোমেস্টিকর এলপিজি বুকিংয়ের ক্ষেত্রে আগের ২১ দিনের বদলে এখন কমপক্ষে ২৫ দিনের ব্যবধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যবহারের চেয়ে গৃহস্থালির গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে হোটেল, খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাসের সংকট আরও বেড়েছে। সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে রিফাইনারিগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি মজুতদারি ও কালোবাজারি ঠেকাতে প্রয়োগ করা হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি আইন (Essential Commodities Act)।
শুধু ছাতারপুর নয়, দেশের আরও বিভিন্ন জায়গায় একই ধরনের অভিযান চলছে। এলপিজি সিলিন্ডার মজুত বা কালোবাজারির অভিযোগ পেলেই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই ঘটনার জেরে আবারও সামনে এল গ্যাস সঙ্কটকে কেন্দ্র করে বেআইনি মজুত ও কালোবাজারির আশঙ্কা। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি আরও কড়া করা হবে।