
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তে একটি 'চতুর্মুখী নিশ্ছিদ্র সুরক্ষা গ্রিড' (quadrangular foolproof security grid) তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, 'স্মার্ট বর্ডার' তৈরির পরিকল্পনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই দেশের সাত থেকে আটটি জায়গায় এর পাইলট প্রজেক্ট শুরু হবে।
সীমান্তের কাঁটাতার আধুনিক করার প্রসঙ্গে শাহ বলেন, "প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার কাঁটাতার ১৫ বছরের বেশি পুরনো হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে ১১৯ কিলোমিটার বদলানোর জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।" বিএসএফ-এর লঙ্কামুড়া বর্ডার আউটপোস্ট পরিদর্শনে গিয়ে শাহ বলেন, "স্মার্ট বর্ডারের ধারণাটি এখন শেষ পর্যায়ে। দেশের বিভিন্ন সীমান্তে একযোগে সাত-আটটি জায়গায় এর পাইলট প্রজেক্ট শুরু হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, ড্রোন, সেন্সর এবং স্মার্ট ফেন্সিং ব্যবহার করে একটি স্মার্ট সুরক্ষা গ্রিড তৈরি করা হচ্ছে।"
তিনি উল্লেখ করেন যে বিএসএফ-কে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যার প্রত্যেকটির নিজস্ব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শাহ জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বিএসএফ এবং সশস্ত্র সীমা বল (SSB) যেখানেই মোতায়েন রয়েছে, সেখানেই 'স্মার্ট বর্ডার' তৈরি করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই 'চতুর্মুখী সুরক্ষা কৌশল'-এর মূল লক্ষ্য হল স্থানীয় প্রশাসন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা কর্মীদের একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে সীমান্তকে অভেদ্য করে তোলা।
শাহ আরও বলেন, পাইলট প্রজেক্টের প্রাথমিক পর্যায়ে যে সমস্যাগুলো আসবে, সেগুলোর সমাধান করে তবেই পুরো সীমান্তে এই মডেলটি কার্যকর করা হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "শুধুমাত্র সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষে একা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পাটোয়ারি, সরপঞ্চ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিএসএফ কর্মীদের মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিশ্ছিদ্র সুরক্ষা গ্রিড তৈরি হবে।" শাহর মতে, সীমান্ত এলাকার স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে না নিলে সীমান্তকে পুরোপুরি সুরক্ষিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য একটি সমন্বিত এবং সামগ্রিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, সীমান্ত চৌকিতে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার এবং নিরাপদ পানীয় জলের মতো একাধিক প্রকল্প শুধু শুরুই হয়নি, সম্পূর্ণও হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার সীমান্ত দেশের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই রাজ্যটি তিন দিক থেকেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে ঘেরা। প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে শাহ বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি সম্পূর্ণ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে এবং সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা একটি পূর্বশর্ত। তিনি আরও বলেন, চোরাচালান, মানব পাচার এবং যুব সমাজকে নষ্ট করে দেওয়া মাদকের নেশা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।
অমিত শাহ জানান, এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকার একটি ব্যাপক 'স্মার্ট সিকিউরিটি গ্রিড' তৈরির কাজ করছে। তিনি সীমান্ত বেড়া দেওয়ার ধারণা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কাজের সংস্কৃতিতে বদল আনার উপর জোর দেন। দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সমাজকে প্রভাবিত করে এমন সমস্ত বিপদ থেকে দেশ ও তার সীমান্ত রক্ষা করা সবচেয়ে জরুরি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ করেন, স্মার্ট ফেন্সিং এবং চতুর্মুখী সুরক্ষা গ্রিডের ধারণাগুলি আগামী বছরগুলিতে সীমান্ত সুরক্ষায় মোতায়েন সমস্ত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কাজের পদ্ধতিতে একটি বড় পরিবর্তনের অংশ।
এই উপলক্ষে শাহ বিএসএফ-এর লঙ্কামুড়া বিওপি পরিদর্শন করেন এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে তিনি আগরতলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি আগর গাছের চারাও রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিরেক্টর, সচিব (বর্ডার ম্যানেজমেন্ট) এবং বিএসএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল।