
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব বিরোধী নেতার। উৎসব শেষ। নতুন করে আন্দোলনের তোড়জোড় শুরু করেছে বিরোধীরা। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরসরি নিশানা করেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে। তাঁর নিশানায় রয়েছেন বাকি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নিজেদের 'নেতিবাচক রাজনীতি'র কারণে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস কোনও নির্বাচনেই জিততে পারবে না। রাহুল গান্ধীর 'ভোট চুরি'র অভিযোগ নিয়ে শাহের দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতেই কংগ্রেস এই সব কথা বলছে। পাশাপাশি, আপ-এর জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, পঞ্জাব থেকে তাঁর দল একেবারে মুছে যাবে।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে নিশানা করে শাহ আরও বলেন, পঞ্জাবে আম আদমি পার্টির সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সাধারণ মানুষ এর 'যোগ্য জবাব' দেবে।
দেশের রাজধানীতে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কংগ্রেসের তোলা প্রশ্নগুলোও উড়িয়ে দেন। তাঁর কটাক্ষ, নির্বাচনে হারলেই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘাড়ে দোষ চাপানো কংগ্রেসের পুরনো স্বভাব।
অমিত শাহ বলেন, "আমি রাহুল গান্ধীকে বলতে চাই, ভোট চুরির অভিযোগ তুলে আপনারা আসলে অনুপ্রবেশকারীদের ভোট বাঁচাতে চাইছেন। কয়েক দশক ধরে অনেক রাজ্যেই কংগ্রেস ক্ষমতায় আসতে পারেনি। আর এই ধারা প্রধানমন্ত্রী মোদী ক্ষমতায় আসার অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে।"
'৩০ বছরেও ক্ষমতায় আসবে না কংগ্রেস'- অমিত শাহ
কংগ্রেসের নির্বাচনী ভবিষ্যৎ নিয়ে কটাক্ষ করে শাহ আরও বলেন, "আপনারা যেভাবে নেতিবাচক রাজনীতি করছেন, তাতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত আপনাদের জেতার কোনও আশা নেই। যেখানে আপনারা জেতেন, সেখানে নির্বাচন কমিশন খুব ভালো। আর হারলেই কমিশন খারাপ হয়ে যায়! আমার কথা যদি শুনতে পান, তবে মনে রাখবেন আগামী ৩০ বছর আপনাদের কোনও সুযোগ নেই।"
এরপর শাহ আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দিকে তোপ দাগেন। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, কেজরিওয়াল শুধু ধর্না-বিক্ষোভের রাজনীতিই করেছেন, দিল্লির সাধারণ নাগরিক পরিষেবা নিয়ে কোনও মাথা ঘামাননি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমি কেজরিওয়ালকে বলতে চাই, পঞ্জাব থেকে আপ সরকারকে উপড়ে ফেলে মানুষ আপনাদের যোগ্য জবাব দেবে। আপনারা শুধু আন্দোলন আর বিক্ষোভের রাজনীতি করেছেন। দিল্লির পাহাড়প্রমাণ জঞ্জাল সাফ করার জন্য আপনারা কিছুই করেননি।"
রাজধানীর জঞ্জাল সাফাইয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শাহ বলেন, "আমরা এই বিষয়ে দিনরাত কাজ করছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই জঞ্জালের স্তূপগুলো সুন্দর পাবলিক গার্ডেনে বদলে যাবে।"
অমিত শাহ এদিন যমুনা নদী পরিষ্কার ও পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ৮,৯৪১ কোটি টাকা ব্যয়ের দিল্লি জল বোর্ডের (DJB) ৪৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন।
শাহ জোর দিয়ে বলেন, নতুন এই উদ্যোগগুলো যমুনা নদীর সার্বিক সংস্কারের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি শহরের পানীয় জলের পরিকাঠামোও উন্নত করবে।
তিনি বলেন, "যমুনা নদী পরিষ্কার করার লক্ষ্যে ৯,০০০ কোটি টাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করতে আজ আমি দ্বারকায় আপনাদের মাঝে এসেছি। এই প্রকল্পগুলো যমুনা সাফাইয়ের মূল ভিত্তি... দিল্লিতে সরকার গড়ার ঠিক পরেই, প্রথম মাসের মধ্যেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী মোদী একটি বড় বৈঠক ডাকেন। সেখানে তিনি দিল্লি সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে যমুনা পরিষ্কার করার বিষয়ে তাঁর রূপরেখা তুলে ধরেন... এত কম সময়ের মধ্যেই আমরা এই লক্ষ্যের ৪০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ করে ফেলেছি। রেখা গুপ্তা এবং প্রবেশ বর্মার প্রচেষ্টায় আজ ৯,০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ও শিলান্যাস হচ্ছে। এর মধ্যে বর্জ্য জল শোধন এবং পানীয় জল সংক্রান্ত নানা উদ্যোগ রয়েছে।"