
রাজ্যে জন্মহার কমে যাওয়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। বৃহস্পতিবার তিনি ঘোষণা করেছেন যে দুই বা তার বেশি সন্তান থাকা দম্পতিকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। বিধানসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে নাইডু বলেন, "সরকার অন্ধ্রপ্রদেশের মোট জন্মহার বর্তমান ১.৫ থেকে ২.১-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। আমরা একটি অভিনব পদ্ধতির দিকে নজর দিচ্ছি। দ্বিতীয় বা তার বেশি সন্তান থাকা বাবা-মায়েদের আমরা ২৫,০০০ টাকা দেব। এটি একটি বড় পরিবর্তন আনবে। যদি আমরা এটি করতে পারি, তবে এটি খুবই কার্যকর হবে। একসময় জনসংখ্যাকে একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা হত এবং ২০০৪ সালের আগে আমরা পরিবার পরিকল্পনাকে উৎসাহিত করেছিলাম। এমনকি আমরা দুই সন্তানের বেশি সন্তান থাকলে স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আইনও এনেছিলাম। কিন্তু আজ, দুই সন্তানের বেশি সন্তান থাকলে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দেওয়ার জন্য আইন সংশোধন করার প্রয়োজন। একটি জাতি কেবল তার জমি, অঞ্চল, শহর বা সীমানা সম্পর্কে নয়, এটি তার জনগণের সম্পর্কে।"
জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে বেশ কয়েকটি দেশ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার মার্চ মাসের শেষ নাগাদ জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার উপর একটি নীতি আনার এবং এপ্রিল থেকে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। নাইডু বিধানসভায় বলেন যে জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য একটি গেম চেঞ্জার হবে।
নাইডু বিধানসভায় বলেন, "বর্তমানে, প্রায় ৫৮% পরিবারে মাত্র একটি সন্তান রয়েছে, প্রায় ২.১৭ লক্ষ পরিবারে দুটি সন্তান রয়েছে এবং প্রায় ৬২ লক্ষ পরিবারের তিন বা তার বেশি সন্তান রয়েছে। প্রায় তিন লক্ষ পরিবারের দুটির পরিবর্তে কেবল একটি সন্তান রয়েছে, অন্য তিন লক্ষ পরিবারের দুটির বেশি সন্তান রয়েছে। জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য আদর্ জন্মহার ২.১ এর বিপরীতে অন্ধ্রপ্রদেশের মোট জন্মহার (টিএফআর) ১.৫ এ দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে জন্মহার হ্রাস পেতে থাকে, যা কর্মী ঘাটতি এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। জনগণই আমাদের শক্তি। জনসংখ্যাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পদ। বিশ্ব ক্রমশ বৃহৎ জনসংখ্যার দেশগুলির উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। আগে আমি পরিবার পরিকল্পনার প্রচার করেছিলাম কিন্তু এখন আমি জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিচ্ছি। ভবিষ্যতে মানব সম্পদ সঙ্কট এড়াতে, রাজ্যে প্রজনন হার বৃদ্ধি করতে হবে। যৌথ পরিবারগুলি অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ ভারতে জনসংখ্যা হ্রাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভবিষ্যতে সংসদীয় আসন বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে দক্ষিণ রাজ্যগুলিতে প্রতিনিধিত্ব হ্রাস পেতে পারে।"