
প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল পাস হল লোকসভায়। বুধবার লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়েছে 'পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬'। বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বারবার বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, দিল্লির যন্তর মন্তরে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের উপর বলপ্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস-বিরোধী দেশব্যাপী আন্দোলনের কয়েক সপ্তাহ পরেই এই প্রস্তাবিত আইনটি আনা হল। যা এখন রাজ্যসভায় পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এই আইনের আওতায় প্রতিটি রাজ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচারের জন্য 'ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত' গঠনের এবং দুই মাসের মধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।
এতে অপরাধীদের জন্য শাস্তির মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের ক্ষেত্রে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে।
দিনের শুরুতে বিলের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী। সিজেপি-র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় পুলিশি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে গান্ধী বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আমাদের শিক্ষার্থীদের শরীরে পেলেট (ছররা গুলি) বিদ্ধ করেছিলেন। তিনি ভারতের শিক্ষার্থীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।" তিনি আরও দাবি করেন যে, "বলপ্রয়োগের বিষয়টি কেবল মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীই অনুমোদন করতে পারেন।"
তাঁর এই মন্তব্যের জেরে শাসক দলের বেঞ্চ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানো হয় এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু দাবি করেন যে, গান্ধীকে তাঁর অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে হবে। বিজেপি ও এনডিএ-র সাংসদরা কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনার অভিযোগ তোলেন। যার ফলে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান এবং সাময়িক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তাঁরা ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানান। অন্যদিকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা গান্ধীকে মনে করিয়ে দেন যে, সদনে উত্থাপিত অভিযোগের সপক্ষে অবশ্যই প্রমাণ থাকতে হবে।
এর জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে "তথ্যগতভাবে ভুল" বলে খারিজ করে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ওই আন্দোলনের সময় কোনও গুলি চালানো হয়নি এবং গুলি চালানোর কোনও নির্দেশও দেওয়া হয়নি। সিং স্পষ্ট করেন যে, ওই অভিযানের সময় পুলিশ কেবল কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছিল এবং গুলি চালানোর নির্দেশ কেবল একজন ম্যাজিস্ট্রেটই দিতে পারেন, পুলিশ নয়। তিনি অমিত শাহের ৩০টি গাড়ির কনভয় নিয়ে ভ্রমণের বিষয়ে গান্ধীর দাবিও খারিজ করে দেন এবং অভিযোগটিকে অসত্য বলে অভিহিত করেন।