
Punjab Budget: আগামী বছর পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। পঞ্চনদের দেশে অগ্নিপরীক্ষার মুখে আম আদমি পার্টির সরকার। দিল্লিতে ধরাশায়ী হওয়ার পর পঞ্জাবই এখন আপের শেষ দুর্গ। আর সেই দুর্গ বাঁচাতে রাজ্য বাজেটে কল্পতরুর ভূমিকা মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। বাজেটে রাজ্যের মহিলাদের মাসে এক হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মান। পাশাপাশি রাজ্যের দলিত সম্প্রদায়ের মহিলাদের মাসে দেড় হাজার টাকা দেওয়ার কথাও পঞ্জাব বাজেটে বলা হয়েছে। পঞ্জাবে অর্থ বাজেটে প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যের মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী বাজেটটির নাম দিয়েছেন 'সারি গ্যারান্টিয়াঁ পূরি করন ওয়ালা বাজেট', অর্থাৎ জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের বাজেট। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, রাজ্যের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন বা GSDP আগামী বছরে প্রায় ৯ লক্ষ ৮০ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা ছুঁতে পারে এবং প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই বাজেটে নতুন কোনও কর আরোপ করা হয়নি। পঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চীমা জানান, সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি করের বোঝা না চাপানোর নীতিই বজায় রেখেছে সরকার।
মহিলাদের জন্য বড় ঘোষণা করা হয়েছে 'মুখ্যমন্ত্রী মাওয়ান দিয়ান সাতকার যোজনা' নামে নতুন একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর আওতায় প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা এবং তফসিলি জাতিভুক্ত (দলিত) মহিলাদের ১,৫০০ টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এতে রাজ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা উপকৃত হবেন। শিক্ষা ক্ষেত্রেও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষা খাতে মোট ১৯ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ প্রায় ৬ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যযোজনায় ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি পরিবার বছরে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা পাবে এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ পরিবারকে এই পরিষেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ডাইরেক্ট সিডেড রাইস চাষে উৎসাহ, ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনার জন্য ৬০০ কোটি টাকা, এবং কৃষকদের পাম্পসেটের জন্য বিদ্যুৎ ভর্তুকি চালু রাখার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া সমাজকল্যাণ ও সামাজিক ন্যায়বিচার খাতে রেকর্ড ১৮ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রা প্রকল্প চালিয়ে যেতে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ ভর্তুকির ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক সূচক অনুযায়ী, রাজ্যের কার্যকর রাজস্ব ঘাটতি জিএসডিপি-র প্রায় ২.০৬ শতাংশ এবং আর্থিক ঘাটতি ৪.০৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। সরকারের দাবি, একদিকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রাখা, অন্যদিকে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে।