
ইটানগর: অরুণাচল প্রদেশে বাঁধ-বিরোধী আন্দোলন ক্রমশই আরও বড় আকার নিচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ এবার রীতিমতো হিংসাত্মক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই মানবাধিকার কর্মী এবো মিলি এবং যুব নেতা ওতুল জেরাং ও তাজোং তালম-সহ বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতাকে গ্রেফতার করেছে। ইস্ট সিয়াং জেলার পাসিঘাটে বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীরা ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের (NHPC) স্থানীয় অফিসে এবং বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাসিঘাট থানা, স্থানীয় বিজেপি সভাপতির বাড়ি এবং বিধায়কদের বাড়ি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসরে নেমেছে কেন্দ্র। কেন্দ্র সরকার বায়ুসেনার বিমানে করে তড়িঘড়ি সিআরপিএফ (CRPF) এবং র্যাফ (RAF)-এর মতো কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়েছে। প্রশাসন ইস্ট সিয়াং-সহ তিনটি সীমান্তবর্তী জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় ৪০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী এবং বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
সিয়াং নদীর ওপর এই বিশাল বাঁধ তৈরি হলে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের জমি, জীবনযাত্রা এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। এই আশঙ্কা থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা এবং উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন সংগঠন একজোট হয়ে পথে নেমেছে। অন্যদিকে, অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু আন্দোলনকারীদের কাছে হিংসার পথ ছেড়ে আলোচনার টেবিলে বসার আবেদন জানিয়েছেন।