
গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা আবারও ইতিহাস তৈরি করতে চলেছেন। এই প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতীয় বিমান বাহিনীর সদস্যকে দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বীরত্বের পুরস্কার অশোক চক্র প্রদান করা হতে পারে। ২০২৫ সালের জুনে ১৮ দিনের জন্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) গিয়েছিলেন শুভাংশু। তিনি ছিলেন নাসার- অ্যাক্সিওম-৪ ক্রুর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, যার ফলে তিনি মহাকাশে যাওয়া দ্বিতীয় এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাওয়া প্রথম ভারতীয়। মহাকাশে থাকাকালীন শুক্লা অত্যাধুনিক মাইক্রোগ্রাভিটি পরীক্ষা পরিচালনা করেছিলেন।
অভিযানের সময়, শুভাংশু শুক্লা সাহসিকতার সঙ্গে অনেক চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং তাঁর বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে গৌরব এনে দিয়েছিলেন। তাঁর অসাধারণ এবং অপ্রত্যাশিত সাফল্যের কারণে তাঁকে অশোক চক্রে ভূষিত করার কথা বলা হচ্ছে।
শুভাংশু শুক্লা আরও তিনজন মহাকাশচারীর সাথে অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনে ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে মহাকাশে উড়েছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, উইং কমান্ডার রাকেশ শর্মার পরে শুভাংশু শুক্লা মহাকাশ ভ্রমণকারী দ্বিতীয় ভারতীয় মহাকাশচারী হন।
শুভাংশু শুক্লার মহাকাশ অভিযান বিভিন্ন দিক থেকে ঐতিহাসিক ছিল। তিনি প্রায় ২০ দিন মহাকাশে কাটিয়ে ১৪ জুলাই নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি ৬০টিরও বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করেন, যার মধ্যে রয়েছে জৈব চিকিৎসা বিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান, কৃষি এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র সম্পর্কিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এই পরীক্ষাগুলি কেবল প্রদর্শনের জন্য ছিল না। এগুলি প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছিল, যা গগনযান মিশনের ভবিষ্যতের মহাকাশচারীদের পৃথিবীর কক্ষপথের কঠোর পরিবেশ থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।
শুভাংশু শুক্লা মূলত উত্তর প্রদেশের লখনউয়ের বাসিন্দা। দ্বাদশ শ্রেণী পাস করার পর তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি-র প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি স্নাতক হন এবং ২০০৬ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। ২০১৯ সালে, তিনি গগনযান মিশনের জন্য একজন মহাকাশচারী হিসেবে নির্বাচিত হন। এখন, তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অশোক চক্র প্রদান করা হতে পারে। সব ঠিক থাকলে আগামী কাল অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি তাঁকে ‘অশোকচক্র’ সম্মানে ভূষিত করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।