
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) নাগরিকত্ব আইন, ২০০৯-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী প্রকাশ করেছে। সোমবার রাতে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা আবেদনকারীদের জন্য পাসপোর্ট সংক্রান্ত নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। এই সংশোধিত নিয়মটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬’। সরকারি গেজেটে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এটি কার্যকর হয়ে গিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ১৮ নম্বর ধারার ক্ষমতা ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সরকার এই নিয়ম সংশোধন করছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সিটিজেনশিপ রুলসের ‘শিডিউল আইসি’-তে একটি নতুন ধারা যোগ করা হয়েছে। এতে আবেদনকারীদের জানাতে হবে, তাঁদের কাছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া কোনও বৈধ বা মেয়াদ উত্তীর্ণ পাসপোর্ট আছে কি না। যাঁদের কাছে এই ধরনের পাসপোর্ট থাকবে, তাঁদের পাসপোর্টের নম্বর, কবে ও কোথা থেকে ইস্যু করা হয়েছে এবং তার মেয়াদ শেষের তারিখ—এই সমস্ত তথ্য বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে। আর যাঁদের কাছে এমন কোনও পাসপোর্ট নেই, তাঁদেরকেও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু তাই নয়, আবেদনকারীরা যদি পাসপোর্ট থাকার কথা ঘোষণা করেন, তবে তাঁদের একটি অঙ্গীকারও করতে হবে। নাগরিকত্বের আবেদন মঞ্জুর হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তাঁদের সেই পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট ডাক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।
সরকারি আধিকারিকদের মতে, এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হল নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং নথি যাচাইয়ের কাজ আরও সহজ করা।
উল্লেখ্য, মূল নাগরিকত্ব আইনটি ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল এবং শেষবার সংশোধন করা হয় ২০২৪ সালের ১১ মার্চ। এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল, ২০১৯ পাশ করে। তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন, এই আইনের মাধ্যমে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে ভারতে চলে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা নতুন আশার আলো দেখবেন। শাহ সেই সময় বারবার বলেছিলেন, এই বিল ভারতের কোনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয় এবং প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নরেন্দ্র মোদী সরকার দেশের প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অমিত শাহ আরও জানিয়েছিলেন, এই বিলের উদ্দেশ্য হল দশকের পর দশক ধরে ধর্মীয় অত্যাচারের শিকার হওয়া মানুষদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দিয়ে একটি সম্মানজনক জীবন দেওয়া। নাগরিকত্ব মঞ্জুর হলে, ভারতে প্রবেশের দিন থেকেই তা কার্যকর হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থও সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে। এমনকি এই সব মানুষের পাসপোর্ট বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তাঁদের অবৈধ বলে গণ্য করা হবে না। শাহ আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো ইসলামিক দেশগুলিতে সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যা বছরের পর বছর ধরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে, কারণ তাঁদের হয় হত্যা করা হয়েছে অথবা ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে। এই কারণেই তাঁরা ভারতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, ধর্মীয় ভিত্তিতে দেশভাগ এবং ১৯৫০ সালের নেহরু-লিয়াকত চুক্তির ব্যর্থতাই এই বিল আনার অন্যতম কারণ।