ভুটানে ভয়াবহ হড়পা বান! ভেসে গেল উষ্ণ প্রস্রবণ, উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?

Published : Oct 30, 2026, 04:23 PM IST
Glacial Lake Outburst In Bhutan

সংক্ষিপ্ত

ভুটানের শিনতাফু হিমবাহ হ্রদ ভেঙে ভয়াবহ GLOF-এর জেরে ভেসে গিয়েছে গাসা জেলার জনপ্রিয় উষ্ণ প্রস্রবণ কেন্দ্র। এই বিপর্যয়ের জেরে উত্তরবঙ্গ ও অসমে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চলছে এবং রাজ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ভুটানে হিমবাহের হ্রদ ভেঙে ভয়াবহ হড়পা বানের ঘটনা। আচমকা বিপুল জলরাশি নেমে আসায় উত্তর ভুটানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে গাসা জেলার জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ কেন্দ্র গাসা ছাচু। পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গিয়েছে পাহাড়ি রাস্তা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুনাখা-গাসা হাইওয়ের একাংশও। যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে ওই রাস্তায়। এই বিপর্যয়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে ভারত-ভুটান সীমান্তেও।

কীভাবে ঘটল বিপর্যয়?

ভুটানের গাসা জেলার শিনতাফু হিমবাহ হ্রদ থেকে আচমকা জল বেরিয়ে আসার জেরেই এই বিপর্যয়। হিমবাহের গলিত জল জমে তৈরি হওয়া হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল জলরাশি পাহাড়ি নদী দিয়ে নীচের দিকে নেমে আসে। এই ধরনের ঘটনাকে বলা হয় গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা GLOF। জলস্রোতের সঙ্গে নেমে আসে বিশাল পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ। ফলে মুহূর্তের মধ্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে নদী সংলগ্ন জনপদ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বিপদের আশঙ্কা উত্তরবঙ্গেও

ভুটানের পাহাড় থেকে নেমে আসা বিপুল জলরাশি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্বেগ তৈরি হয় উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে। বিশেষ করে সঙ্কোশ নদী এবং তার শাখা নদীগুলির জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করে প্রশাসন। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আলিপুরদুয়ারের একাধিক এলাকায় শুরু হয় মাইকিং। প্রশাসনের তরফে ত্রাণ ও উদ্ধার প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়।

সরানো হয়েছে হাজার হাজার বাসিন্দাকে

সঙ্কোশ নদীর অববাহিকায় বন্যার আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ারের নদীপাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, কয়েক হাজার মানুষকে ত্রাণশিবির ও নিরাপদ এলাকায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। SDRF ও NDRF-কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জ এবং সংলগ্ন এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, অসমের ধুবুরিতেও নদীর জলস্তরের উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

পরিস্থিতি নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?

ভুটানের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব নিয়ে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে রাজ্য সরকার। নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই মুহূর্তে পরিস্থিতি পুরো স্বাভাবিক। নবান্ন কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সমস্ত মানুষ সুরক্ষিত আছেন।” প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ

এই বিপর্যয়ের জেরে ভারত ও ভুটানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি পুনাতসাংছু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে গেলে প্রকল্পের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভুটানে হড়পা বানের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও সামনে আসেনি। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ ও অসমে নদীর জলস্তরের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। আপাতত বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গেলেও পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Diwali: বিজেপির কার্যালয়ে দীপাবলির বিশেষ আড্ডা, ৫০ দেশের ৯০ জন কূটনীতিককে আমন্ত্রণ জানালেন নিতিন নবীন
প্রথম চেষ্টাতেই INS Vikrant-এ অবতরণ রাফাল মেরিনের! ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তিতে নতুন পালক