Bihar Boat Tragedy: 'আমার আর কেউ রইল না'! বিহারে গঙ্গা বক্ষে নৌকাডুবিতে স্বজনহারা মা

Published : Oct 14, 2026, 04:00 PM IST

বিহারের বৈশালীতে গঙ্গায় নৌকাডুবিতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাঘোপুরে ২৫-৩০ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা উল্টে যায়। মৃতদের মধ্যে একই পরিবারের ১৩ জন শিশু রয়েছে, যাদের মধ্যে তিন বোনও আছে।

PREV
14
বিহার নৌকাডুবি: মৃতদের মধ্যে একই পরিবারের ১৩ শিশু

সোমবার সন্ধ্যায় বিহারের বৈশালী জেলায় গঙ্গায় যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা উল্টে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাঘোপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। একটি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যোগ দিতে শিশু ও অন্যান্য যাত্রীরা নৌকায় করে পাশের গ্রামে যাচ্ছিলেন। জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে একই পরিবারের ১৩ জন শিশু রয়েছে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারগুলোতে। বিহারের ওই গ্রামের ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, স্বজনহারা পরিবারগুলো কান্নায় ভেঙে পড়েছে। সময়মতো তাদের ডাক শুনতে পেলে শিশুদের বাঁচানো যেত কি না, সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।

রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে একটি ছোট নৌকা নদী পার হওয়ার সময় উল্টে যায়। অনেকেই জলে পড়ে যান। এরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

24
শ্রাদ্ধবাড়ি থেকে ফিরছিল শিশুরা

স্থানীয়দের কথায়, শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যোগ দিতে ওই শিশুরা পাশের গ্রামে গিয়েছিল। ফেরার পথেই গঙ্গায় নৌকা উল্টে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

আজ তকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যক্ষদর্শী রবি যাদব জানান, নৌকায় করে শিশুরা পাশের গ্রামে গিয়েছিল। ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁর দাবি, শিশুরাই নৌকাটি চালাচ্ছিল।

মৃতদের বয়স ৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। মৃতদের মধ্যে তিন বোন রয়েছে। জানা গিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ১৩ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

বৈশালীর ডিএম-কে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা

বৈশালীর নৌকাডুবির পর এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামনে এসেছে। সন্তানহারা এক মা কান্নায় ভেঙে পড়ে জেলাশাসক বর্ষা সিংকে জড়িয়ে ধরেন।

দুর্ঘটনায় মেয়েদের হারানো ওই মহিলা প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে ডিএম-কে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। কান্নার ফাঁকেই তিনি জানান, তাঁর তিন মেয়ে, এক ছেলে এবং ননদের ছেলে ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। কিন্তু তাঁর মাত্র এক ছেলেই বেঁচে ফিরেছে।

নিউজ১৮-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মা কাঁদতে কাঁদতে ডিএম-কে জিজ্ঞেস করেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গে এমনটা ঘটলে তিনি কী করতেন। "আমার আর কেউ রইল না," বলে তিনি ডুকরে ওঠেন। গঙ্গায় নৌকাডুবির পর পরিবারগুলোর এই চরম ক্ষতি এই আবেগঘন দৃশ্যের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

রাঘোপুরে নদী পারাপার দৈনন্দিন জীবনের একটা অংশ। এই এলাকাটি বন্যাপ্রবণ। তাই পাশের গ্রামে যাওয়ার জন্য নৌকাই মূল ভরসা। তবে এই দুর্ঘটনার পর দৈনন্দিন যাতায়াতে ব্যবহৃত নৌকার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে যখন তাতে শিশুরা যাতায়াত করে।

34
ভাঙাচোরা নৌকায় পারাপার, উঠল নিরাপত্তার প্রশ্ন

রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) উদ্ধারকাজে অংশ নেয় এবং নদী থেকে উল্টে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করে।

পরিদর্শনের পর জানা গিয়েছে, নৌকাটির একপাশে একটি বড় গর্ত ছিল। রবি যাদব দাবি করেন, সরকার থেকে দেওয়া ওই নৌকাটি বেশ পুরনো এবং খারাপ অবস্থায় ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারাও নৌকাটিকে জরাজীর্ণ বলে জানিয়েছেন।

রাঘোপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা সতীশ রাই জানান, এলাকাটি বন্যাপ্রবণ। বেশ কয়েক বছর আগে গ্রামটিকে ওই নৌকাটি দেওয়া হয়েছিল।

অতিরিক্ত যাত্রীর কারণেও এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে নৌকাটি উল্টে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্ধকারের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। নদীতে নিখোঁজদের খুঁজতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে বেশ বেগ পেতে হয়।

আহত সাতজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, তাদের পাটনার নারায়ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (এনএমসিএইচ) স্থানান্তরিত করা হয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে এখনও তল্লাশি চলছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে নৌকার পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ, নদী পারাপারের জন্য স্থানীয়দের কাছে নৌকাই একমাত্র ভরসা।

44
মৃতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য ঘোষণা মোদীর

এই প্রাণহানির ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সাহায্যও ঘোষণা করেছেন তিনি।

এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে শেয়ার করা একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, বৈশালীর নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি তিনি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

পিএমও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (পিএমএনআরএফ) থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে এককালীন সাহায্য দেওয়া হবে। আহতরা প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীও মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

শোকপ্রকাশ তেজস্বী যাদবের

মঙ্গলবার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন বিহারের বিরোধী দলনেতা তথা রাঘোপুরের বিধায়ক তেজস্বী যাদব।

এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে তেজস্বী যাদব জানান, অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে নৌকা উল্টে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বিবৃতি দেওয়ার সময় পর্যন্ত ১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, ৬ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ৩ জন নিরাপদে রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উদ্ধারকাজ চলাকালীন হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে আসায়, সরকারিভাবে সঠিক পরিসংখ্যান জানার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বেশ কয়েকটি পরিবারকে সন্তানহারা করেছে। পাশাপাশি বন্যাদুর্গত গ্রামগুলোতে যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অনেক সম্প্রদায়ের কাছে নৌকাই জীবনরেখা। তাই পুরনো নৌকাগুলোর ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না এবং এই ধরনের বিপর্যয় এড়াতে পর্যাপ্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতেও তদন্ত চলছে।

(এজেন্সির ইনপুট সহ)

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories