
রবিবার বিহারের বাঁকা জেলার একটি খাল থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটি মানুষের কাটা মুণ্ডু উদ্ধার হয়। রাস্তার কুকুরেরা সেটি ছিঁড়ে খাচ্ছিল। টানা পাঁচ দিন ধরে ওই এলাকা থেকে মানুষের দেহের নানা টুকরো উদ্ধার হচ্ছে, যা এই ঘটনাকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি ১৬ বছরের এক নিখোঁজ কিশোরীর। এই খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তার মাকে আটক করা হয়েছে।
বেলহার থানার অন্তর্গত কাঁতিয়া গ্রামে বাদুয়া জলাধারের পশ্চিম দিকের মূল খাল থেকে ওই কাটা মুণ্ডুটি উদ্ধার করা হয়। রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন, খালের কাছে পলিথিনে মোড়ানো একটি জিনিসকে তিন-চারটে কুকুর মিলে ছিঁড়ে খাচ্ছে। কাছে গিয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন ওটা মানুষের মাথার খুলি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহাংশগুলো উদ্ধার করে। ফরেনসিক দল (FSL) সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। ময়নাতদন্তের জন্য মাথার খুলিটি বাঁকায় পাঠানো হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর থেকে ওই খাল থেকে মানুষের দেহাংশ উদ্ধারের যে ভয়ংকর ঘটনা শুরু হয়েছিল, এই খুলি উদ্ধারের পর তা আরও চাঞ্চল্যকর মোড় নিল। পুলিশ এখনও পর্যন্ত সাতটি দেহাংশ, একটি মানুষের হাত এবং মাথার খুলি উদ্ধার করেছে। মনে করা হচ্ছে, এই হাড়গোড়গুলো বাঘোনিয়া গ্রামের বাসিন্দা সন্তোষ সিংয়ের ১৬ বছর বয়সী মেয়ের। তবে এখনও তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার রিপোর্ট আসা বাকি।
গত ২৮ অক্টোবর ছাগরাচারা গ্রামের কাছে খালে মাছ ধরতে গিয়ে স্থানীয়রা প্রথম মানুষের দেহের বেশ কয়েকটি টুকরো দেখতে পান। বাদুয়া জলাধারের মূল গেট বন্ধ করে দেওয়ায় জলের স্তর কমে গিয়েছিল, আর তখনই এই দেহাংশগুলো ভেসে ওঠে।
উদ্ধার হওয়া একটি দেহাংশে ইন্ট্রাভেনাস (IV) ক্যানুলা লাগানো ছিল। এর থেকে পুলিশের সন্দেহ, মৃত্যুর আগে ওই ব্যক্তি হয়তো কোনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।
আরও দেহাংশের খোঁজে ২৯ অক্টোবর পুলিশ ডগ স্কোয়াড নামায়। স্নিফার ডগ পুলিশকে খালের ধারের একটি কুয়োর কাছে নিয়ে যায়। প্রথম যেখানে দেহাংশ মিলেছিল, সেখান থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ওই কুয়ো থেকে মানুষের একটি হাত উদ্ধার হয়।
গ্রামের চৌকিদার চৌধুরী পাসোয়ান পুলিশকে একটি গোপন খবর দেন। তিনি জানান, সন্তোষ সিং, তার স্ত্রী সুনিতা দেবী, খুড়তুতো ভাই বিজয় সিং এবং আরও কয়েকজন মিলে ওই কিশোরীকে খুন করেছে। প্রমাণ লোপাট করতেই তারা দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলে দেয়। এই তথ্যের পর তদন্তে বড় মোড় আসে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ২৯ অক্টোবর আরও একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে এবং সুনিতা দেবীকে আটক করে। পরে তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে বাঁকা জেলে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্তোষ সিংয়ের ট্রাক্টর চালককেও আটক করা হয়েছিল, তবে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সন্তোষ সিং এবং বিজয় সিংকে গ্রেফতার করতে পুলিশ এখন জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে।