
বুধবার শ্রীনগরের লাল চকের ঘণ্টা ঘরের সামনে বিক্ষোভে নামেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের মূল অভিযোগ ছিল বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং লাগামছাড়া দুর্নীতি। এখান থেকেই সচিবালয় ঘেরাও করতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। বিজেপি নেতা আলতাফ ঠাকুর সংবাদসংস্থা ANI-কে বলেন, "বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতো বিষয় নিয়ে বিজেপি প্রতিবাদ করছে। আমরা ঘণ্টা ঘর, লাল চক থেকে শুরু করে সচিবালয় ঘেরাও করতে যাব।"
এই বিক্ষোভের জেরে ঘণ্টা ঘর থেকে সিভিল সেক্রেটারিয়েট পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। সম্প্রতি বিদ্যুৎ মাসুল বাড়ানো নিয়েও সরকারকে কোণঠাসা করেছে বিজেপি। যদিও ওমর আবদুল্লার দাবি, বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
এদিকে, ন্যাশনাল কনফারেন্সও (NC) আজই আলাদা একটি বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এবং সংসদে ও সুপ্রিম কোর্টের সামনে কেন্দ্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবিতে তারা গিন্দুন পার্কে প্রতিবাদ করবে।
মঙ্গলবার, জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল কুমার শর্মা একই দিনে বিক্ষোভ ডাকার জন্য ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং ওমর আবদুল্লার তীব্র সমালোচনা করেন। শর্মা বলেন, "জম্মু ও কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরতে বিজেপি এক মাস আগেই এই বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য হল যুবকদের জন্য চাকরি। আর এর মধ্যেই ন্যাশনাল কনফারেন্স হঠাৎ আজ ঠিক করল যে তারাও প্রতিবাদ করবে। ওদের সময়জ্ঞানটা দেখুন। যুবকদের নিয়ে ওরা কতটা চিন্তিত, তা এখান থেকেই স্পষ্ট। ওরাই তো ২৫,০০০ চাকরি ঠিকাদারদের কাছে বেচে দিয়েছিল।"
তিনি আরও যোগ করেন, "সব মিলিয়ে, বিজেপির অফিস ঘেরাও করার যে ঘোষণা ন্যাশনাল কনফারেন্স করেছে, তা আসলে সেই যুবকদের সঙ্গেই একটা তামাশা, যাদের সমস্যাগুলো বিজেপি কালকের বিক্ষোভে তুলে ধরছে। আমার মনে হয় না এই দলটা যুবকদের নিয়ে সত্যি কিছু ভাবে; এই পদক্ষেপটা আসলে নিজেদের পুরনো ভুল ঢাকার একটা চেষ্টা মাত্র।"
এদিকে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের মিছিলের আগে শ্রীনগরে বিজেপির অফিসের চারপাশেও কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পর জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। তারপর থেকেই রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ন্যাশনাল কনফারেন্স একাধিকবার বিক্ষোভ দেখিয়েছে।