
২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এমন এক সময়ে, যখন দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরছিল। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং মধ্যবিত্তের স্বস্তি—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখেই তৈরি হয়েছিল সেই বাজেটের রূপরেখা। এক বছর পেরিয়ে আজ ফিরে তাকালে বোঝা যায়, সেই বাজেট কেবল হিসেবের খাতা নয়, বরং ভবিষ্যতের দিশা দেখানোর চেষ্টা ছিল। ২০২৫-এর বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল পরিকাঠামো।
রেল, সড়ক, বন্দর ও বিমানবন্দরের উন্নয়নে বড় অঙ্কের বরাদ্দ করা হয়। এর ফল হিসেবে বিভিন্ন রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা ও আবাসন প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও প্রাণ ফেরে। মধ্যবিত্তের কথা ভেবে কর কাঠামোতেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
নতুন কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ করার চেষ্টা করা হয়, যাতে করদাতারা কম ঝামেলায় রিটার্ন ফাইল করতে পারেন। অনেকের ক্ষেত্রেই এতে হাতে কিছু বাড়তি টাকা থাকার সুযোগ তৈরি হয়, যা খরচ ও সঞ্চয়ের ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে। স্টার্টআপ ও ডিজিটাল ইকোনমিতেও বিশেষ নজর ছিল ২০২৫-এর বাজেটে। নতুন উদ্যোগকে ঋণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। এর প্রভাব দেখা যায় তরুণদের মধ্যে ব্যবসা শুরু করার আগ্রহ বাড়ার মধ্য দিয়ে। ফিনটেক, এআই ও ই-কমার্স সেক্টরে বিনিয়োগের পরিবেশও তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়। কৃষকদের জন্যও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল।
ফসল বিমা, সেচ প্রকল্প এবং গ্রামীণ পরিকাঠামোর উপর জোর দেওয়া হয়। যদিও সব জায়গায় তার সমান প্রভাব পড়েনি, তবু বহু অঞ্চলে চাষিদের আর্থিক নিরাপত্তা কিছুটা মজবুত হয়। তবে সমালোচনাও কম ছিল না। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আরও শক্ত পদক্ষেপ দরকার ছিল বলে অনেকের মত। বেকারত্ব পুরোপুরি কমাতে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে—এই বাস্তবতাও সামনে আসে। সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট ছিল স্থিতিশীলতার দিকে এগোনোর একটি চেষ্টা। তাৎক্ষণিক ম্যাজিক না দেখালেও, পরিকাঠামো, কর সংস্কার ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে যে বীজ বোনা হয়েছিল, তার ফল ধীরে ধীরে দেখা যেতে শুরু করে। ফিরে তাকালে বলা যায়, ২০২৫-এর বাজেট শুধু বছরের হিসাব নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।