স্ত্রী ত্বিশা শর্মার মৃত্যুর মামলায় মূল অভিযুক্ত সমর্থ সিং-এর বাড়িতে হানা দিল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআই-এর একটি দল। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ। এর ঠিক একদিন আগেই সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেয় এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেয়। এরপরই ভোপালের কাযারা হিলস পুলিশ স্টেশনে দায়ের হওয়া এফআইআরটি নতুন করে রেজিস্টার করে সিবিআই এবং ভোপাল পুলিশের থেকে মামলার দায়িত্ব নেয়।
ট্রায়াল কোর্ট, হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে একই সাথে চলতে থাকা একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জের শুনানি করার পরেই শীর্ষ আদালত এই নির্দেশ দেয়।
এই মামলায় নির্যাতিতার পরিবার, অভিযুক্ত এবং রাজ্যের আইনজীবীদের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে মূল বিষয়টি নিষ্পত্তি করে। বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে যে, মূল অভিযুক্ত সমর্থ সিং আইনজীবী এবং তার মা প্রাক্তন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক হওয়ায় বিচারব্যবস্থা নিরপেক্ষ তদন্ত বা বিচার হতে দেবে না, এমন একটা ধারণা তৈরি করার চেষ্টা চলছে। আদালত জানায়, এই ধারণাটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেওয়ার অন্যতম কারণও এটাই।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্যাতিতা এবং অভিযুক্ত, দুই পরিবারকেই মিডিয়ার সামনে সাক্ষাৎকার দিতে বারণ করা হয়েছে। ত্বিশা শর্মা পরিবারের আইনজীবী অঙ্কুর পান্ডে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, ত্বিশা শাশুড়ি গিরিবালা সিং-কে দেওয়া আগাম জামিনকে রাজ্য সরকার চ্যালেঞ্জ করেছে। রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের পাশাপাশি, নির্যাতিতার বাবাও অতিরিক্ত আইনি যুক্তিতে এই আগাম জামিনের আদেশের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। এই চ্যালেঞ্জগুলির বিষয়ে গিরিবালা সিং-কে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৭ মে, ২০২৬, দুপুর ২:৩০ মিনিটে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এবং তার জন্য দু'পক্ষের আইনি দলই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নয়ডার বাসিন্দা ত্বিশা শর্মা গত ১২ মে মারা যান। অভিযোগ, স্বামী এবং তার পরিবারের সদস্যরা পণের জন্য চাপ দিত এবং তার উপর মানসিক অত্যাচার চালাত।