
অযোধ্যা রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই অবশেষে মুখ খুললেন। অনুদান চুরির অভিযোগ নিয়ে এতদিন চুপ থাকার পর তিনি জানিয়েছেন, স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) তদন্ত শেষ করার পরেই তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ পোস্ট করা একটি খোলা চিঠিতে চম্পত রাই দাবি করেছেন, তাঁর জীবন একটা "খোলা বই"। তিনি লিখেছেন, "শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দির চত্বরের অনুদান বাক্সের টাকা গোনার সময় চুরির অভিযোগ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। অনেকে আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছেন, তবুও আমি এতদিন চুপ থেকেছি।"
সোমবার ট্রাস্টের বৈঠকের পর SIT-এর প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসায় চম্পত রাই বলেন, রিপোর্টটি গোপন থাকার কথা ছিল। তিনি লেখেন, "জুলাই মাসে মন্দির ট্রাস্টের বৈঠকে SIT-এর প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করা হয়েছিল। যদিও এই রিপোর্টটি কঠোরভাবে গোপনীয় ছিল, কিন্তু এখন তা প্রকাশ্যে চলে এসেছে।" চিঠিতে তিনি আরও বলেন, "আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে SIT-এর চূড়ান্ত রিপোর্টের পর, আমি ওঠা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেব এবং পুরো সত্য সামনে আসবে। সংগঠন আমাকে ১৯৯১ সালের অক্টোবরে অযোধ্যায় পাঠিয়েছিল। একজন প্রচারক হিসাবে আমার ৪৫ বছরের জীবন একটা খোলা বই, আমি যেখানেই থেকেছি।"
শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ স্বামী গোবিন্দ দেব গিরি মহারাজও ঘোষণা করেছেন যে, ট্রাস্টের বৈঠকে চম্পত রাইয়ের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্রর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। ট্রাস্টের সভাপতি মহন্ত নৃত্য গোপাল দাসের উত্তরসূরি মহন্ত কমল নয়ন দাস জানিয়েছেন, ট্রাস্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে গোপাল রাও, যিনি গোপাল নাগারকাট্টে নামেও পরিচিত, তাঁকে আর ট্রাস্টের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না।
জিজ্ঞাসাবাদ আরও করা হবে
এই মামলার তদন্তে একটি নতুন মোড় এসেছে। অযোধ্যার একটি আদালত রাম মন্দিরের অনুদান তছরুপ মামলায় আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন অভিযুক্ত—লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প মিশ্র এবং করুণেশ পাণ্ডেকে একদিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। পুলিশ এই তিন জেলবন্দি অভিযুক্তকে সাত দিনের জন্য হেফাজতে চেয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের জেরা করা প্রয়োজন। তদন্তকারী অফিসার (IO) আদালতকে জানান, মামলার অগ্রগতির জন্য অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
এদিকে, একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রিপোর্টে মন্দিরে অনুদান গোনার সময় চুরি ও তছরুপের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে জানানো হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, টাকা গোনার কাজে যুক্ত কয়েকজন কর্মী বারবার নোটের বান্ডিল এবং খুচরো টাকা তাদের জামাকাপড়, পকেট, জুতো এবং অন্যান্য গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখছেন। ফুটেজে এটাও দেখা গেছে যে, অন্য কর্মীরা এই কাজে সাহায্য করছেন বা আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
SIT-এর মতে, ওই সময়ের মধ্যে প্রায় ৭০টি চুরির ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার হওয়া টাকা, আর্থিক নথি এবং সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে রিপোর্টে অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে এবং রামশঙ্কর মিশ্রর জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অবিনাশ শুক্লা এবং মণীশ কুমার যাদবকে বারবার টাকা সরাতে বা লুকাতে দেখা গেছে, এবং বাকিদের এই ধরনের কাজে সাহায্য করতে দেখা গেছে।