আমার আর ছাত্রদের মধ্যের ব্যাপারে BCI এখানে নাক গলাচ্ছে কেন? কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতির

Saborni Mitra   | ANI
Published : Aug 14, 2026, 01:42 PM IST
cji surya kant objects to bci action against nalsar students over protest bsm

সংক্ষিপ্ত

NALSAR বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের উপস্থিতি নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা আপত্তি জানায়। এর জেরে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) ওই ছাত্রদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেয়। কিন্তু শুক্রবার CJI নিজেই BCI-এর এই ভূমিকায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "এটা আমার আর ছাত্রদের মধ্যে আলোচনার বিষয়, BCI এখানে নাক গলাচ্ছে কেন?"

NALSAR ইউনিভার্সিটি অফ ল-এর সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর আসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রীরা আপত্তি জানিয়েছিল। এরপরেই বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) ছাত্রদের বিরুদ্ধে একটি সার্কুলার জারি করে। শুক্রবার সেই সার্কুলারের বিরুদ্ধেই তীব্র আপত্তি জানালেন ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেটাকে তিনি 'আমার আর ছাত্রদের মধ্যে আলোচনা' বলে মনে করছেন, সেখানে BCI-এর হস্তক্ষেপ করার অধিকার কে দিয়েছে? "এই ব্যাপারে BCI-এর কোনও ভূমিকা নেই। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। ছাত্ররা আমাকে চিঠি লিখেছে। এটা আমার আর ছাত্রদের মধ্যে আলোচনার বিষয়। ওরা কারা যে অকারণে একটা সার্কুলার জারি করবে?" – সাফ জানান CJI।

BCI-এর সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা সুপ্রিম কোর্টে

CJI সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চে NALSAR-এর ছাত্রছাত্রীদের দায়ের করা একটি মামলার শুনানি চলছিল। বৃহস্পতিবার BCI-এর জারি করা দুটি সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করেই এই মামলা করা হয়। আদালত BCI-কে নোটিশ জারি করেছে এবং তাদের জবাব তলব করেছে।

BCI-এর সার্কুলার

মামলায় BCI-এর সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যেখানে রাজ্য বার কাউন্সিলগুলিকে বলা হয়েছিল ২০২৬ সালে পাশ করা NALSAR-এর কোনও ছাত্রকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নথিভুক্ত না করতে। অর্থাৎ NALSAR বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালে পাশ করা কোনও পড়ুয়া যেন আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে না পারে তারই ব্যবস্থা করা। সমাবর্তনে CJI-এর উপস্থিতি নিয়ে যে 'প্রচার' চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে NALSAR-এর উপাচার্যের কাছে একটি রিপোর্টও চেয়েছিল BCI। কারা এই ঘটনার পিছনে রয়েছে, তাদের বিশদ বিবরণও জানতে চাওয়া হয়।

যদিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই BCI নথিভুক্তিকরণের নির্দেশটি তুলে নেয়। তারা জানায়, আলোচনার পর দেখা গেছে যে ২০২৬ সালের ব্যাচের বেশিরভাগ ছাত্রই নির্দোষ এবং CJI-কে অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। তবে উপাচার্যের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার রাস্তা খোলা রাখা হয়েছিল।

প্রধান বিচারপতির বার্তা

CJI বলেন, ছাত্রদের মতামত ভুল মনে হলেও, আইন মেনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার অধিকার তাদের দেওয়া উচিত। "আমি যখন কলেজে পড়তাম, তখন ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম। কখনও কখনও ওরা ভুল কথা বললেও, যদি আইন মেনে আওয়াজ তোলে, তবে সেই সুযোগ দেওয়া উচিত," বলেন তিনি। BCIএর মামলার শুনানির সময়ই দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, 'আমার আর ছাত্রদের মধ্যে আলোচনা'। সেখানে BCI-এর হস্তক্ষেপ করার অধিকার কে দিয়েছে? "এই ব্যাপারে BCI-এর কোনও ভূমিকা নেই। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। ছাত্ররা আমাকে চিঠি লিখেছে। এটা আমার আর ছাত্রদের মধ্যে আলোচনার বিষয়। ওরা কারা যে অকারণে একটা সার্কুলার জারি করবে?"

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্ট তার নির্দেশে উল্লেখ করেছে যে বিতর্কিত সার্কুলারটি তুলে নেওয়া হয়েছে। BCI-কে দুই সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত আরও জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে ওই চিঠিগুলির বিষয়ে NALSAR-এর কোনও ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। নির্দেশ দেওয়ার পর CJI বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলির উচিত সমালোচনাকে বড় মনে গ্রহণ করা, বিশেষ করে যখন ছাত্ররা তাদের কেরিয়ারের শুরুতে রয়েছে। "আমাদের বড় মনের পরিচয় দেওয়া উচিত। কেউ যদি আমাদের কাছে ভুল কোনও মন্তব্য করেও... সেটা ভুলই হোক না কেন," তিনি বলেন।

খোস মেজাজে প্রধান বিচারপতি

কিছুটা মজার ছলে CJI ছাত্রদের বলেন, তাড়াতাড়ি নথিভুক্তিকরণের প্রক্রিয়া শেষ করে সুপ্রিম কোর্ট বারে যোগ দিতে। তিনি বলেন, তাদের কেরিয়ারে যদি কোনও বাধা আসে, তবে লিগ্যাল এইড কেসের জন্য তাদের প্যানেলভুক্ত করা হবে। "আপনি সব ছাত্রকে বলুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লাইসেন্স নিতে। সুপ্রিম কোর্ট বারে যোগ দিন। ওদের বলুন এটা এখনই করতে। আমরা ওদের লিগ্যাল এইড কেসের জন্য প্যানেলভুক্ত করব। যারা ওদের কেরিয়ারে বাধা দিচ্ছে, তাদের জন্য এটাই হবে যোগ্য জবাব," মন্তব্য করেন CJI।

BCIএর বার্তা

গতকাল মধ্যরাতে BCI চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র X (আগের টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করেন যে NALSAR-এর ২০২৬ ব্যাচের বিরুদ্ধে সমস্ত প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সিনিয়র আইনজীবী, বারের সদস্য, আইনের ছাত্র এবং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ও আবেদন বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ব্যাচের ছাত্ররা যে কোনও গণ্ডগোল বা আন্দোলনে জড়িত ছিল না, সে বিষয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার পরেই এই পদক্ষেপ। BCI এই বিষয়ে আর কোনও ব্যবস্থা নেবে না বলেও তিনি জানান।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

8th Pay Commission: মাসে ৪৫০০০ টাকা পেনশন, বছরে ৪ বার ডিএ বৃদ্ধি, অষ্টম বেতন কমিশনে বড় দাবি
IRCTC: অনলাইনে রেলের টিকিট বুকিং এখন আরও সহজ! নতুন আর পুরনো ওয়েবসাইটের পার্থক্য দেখুন