আগামী ৫ আগস্ট থেকে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে দু'দিনের বৈঠকে বসছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। তবে রাজনৈতিক দল গড়ার কোনও পরিকল্পনা নেই, স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। যুব আন্দোলনের ভবিষ্যৎ রণকৌশল ঠিক করতেই এই বৈঠক।
ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) সোমবার ঘোষণা করেছে যে তাদের কোর টিম আগামী ৫ আগস্ট থেকে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে দু'দিনের এক রণকৌশল বৈঠকে বসছে। এই বৈঠকে CJP-র প্রতিষ্ঠাতা, মুখপাত্র এবং সাংগঠনিক নেতৃত্ব একসঙ্গে বসে যুব আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন।
27
রণকৌশল নির্ণয়ের কাণ্ডারীরা
গত কয়েকদিন ধরে, CJP টিমের সদস্যরা বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন যে দলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত। এর মধ্যে সেই ৫০ জন কোর ভলান্টিয়ারও ছিলেন, যারা যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে দিনরাত এক করে খেটেছিলেন। সঙ্গে থাকছেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস আর অশুতোষ রাঙ্কার মত শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব।
37
আন্দোলনের প্রথম ধাপ
এই বৈঠকের পর, CJP সারা দেশে তাদের ভলান্টিয়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। তরুণ প্রজন্মের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা বুঝতে দেশজুড়ে একটি 'লিসেনিং ট্যুর' বা জনমত শোনার কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে CJP-র সফল আন্দোলনের পর তাঁর পদত্যাগ দেশের তরুণদের মধ্যে এক নতুন আশা জাগিয়েছে।
CJP-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, "তরুণদের হাতে এই অহংকারী সরকারের হার প্রমাণ করে যে, যুবকরা একজোট হলে সবকিছু করতে পারে।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের টিম তরুণদের প্রত্যাশাকে একটা সঠিক দিশা দেওয়ার জন্য সেরা পথটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।" CJP জানিয়েছে, তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ, যার মধ্যে দেশব্যাপী 'লিসেনিং ট্যুর'-এর সময়সূচিও রয়েছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগামী দিনে জানানো হবে।
57
অভিজিৎ দীপকের আস্থা গণআন্দোলনে
CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁদের সংগঠনকে রাজনৈতিক দলে পরিণত করার কোনও ইচ্ছে নেই। ANI-কে দীপকে বলেন, "আমাদের এমন কোনও উদ্দেশ্য নেই। আমরা দেখছি কীভাবে ইডি এবং সিবিআই ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল ভাঙা হচ্ছে। নির্বাচনে ভোট মুছে দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ে, যখন মানুষ রাজনীতির ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে, তখন আমরা রাজনৈতিক দল তৈরি করে কী করব? যেভাবে মানুষ বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা এমনকি মিডিয়ার ওপর থেকেও বিশ্বাস হারাচ্ছে, তাতে এই দেশের একটা গণ-আন্দোলন দরকার।"
67
দিল্লি পুলিশকে নিশানা দীপকের
দিপকেও অভিযোগ করেন যে, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভে বাইরের লোক ঢুকে পড়েছিল, যার ফলে ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানে কিছুটা হিংসা ছড়িয়েছিল। তিনি বলেন, "আমি আমাদের আন্দোলনের শুরু থেকেই বলে আসছি যে বিক্ষোভকে বদনাম করার জন্য বাইরে থেকে কিছু লোককে পাঠানো হবে এবং CJP-র লোকেদের ওপর দোষ চাপানো হবে। এই গুন্ডাদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের আগে থেকেই বোঝাপড়া ছিল। যে বিক্ষোভস্থলে আমাকে চেকিং ছাড়া ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না, সেখানে ২১০০ অপরাধী অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এটা দিল্লি পুলিশের দিকে একটা বড় প্রশ্ন তুলে দেয়।"
77
অমিত শাহকে নিশানা
দীপকে আরও যোগ করেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীনে এটা কী করে সম্ভব? তাঁর পুলিশ কি শুধু তখনই সক্রিয় হয় যখন ১২ বছরের মেয়েদের মারতে হয়? কিন্তু আপনারা অপরাধীদের আটকাতে পারলেন না। আপনারা (দিল্লি পুলিশ) বলেছেন যে বিক্ষোভস্থলে ২১০০ অপরাধীকে দেখা গেছে। এটা অমিত শাহ এবং পুলিশের স্পষ্ট ব্যর্থতা। আসলে, এটা তাদের ব্যর্থতা ছিল না, বরং তাদের পরিকল্পনারই একটা অংশ ছিল।"