
Content Creators: কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য দারুণ সুখবর। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বানিয়ে লক্ষাধিক টাকা উপার্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে সরকার। ডিজিটাল দুনিয়ার প্রচারশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল বিহার সরকার। রাজ্য সরকারের নানা জনকল্যাণমুখী প্রকল্প, সাফল্য ও পরিষেবা নিয়ে ভিডিও তৈরি করলে এখন থেকে সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সাররা ভিডিওপ্রতি সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত ক্যাবিনেট বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। বিহার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যান্ড আদার অনলাইন মিডিয়া রুলস, ২০২৬'-এ সংশোধনী এনে এই নতুন নীতি চালু করা হয়। এদিনের ক্যাবিনেটে ছাড়পত্র পাওয়া ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবের মধ্যে ক্রিয়েটরদের জন্য নেওয়া এই নীতিটি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে।
প্রতি ১ লাখ ভিউজ: সরকার অনুমোদিত ভিডিওতে প্রতি ১ লাখ ভিউজের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ক্রিয়েটরকে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে।
১০ লাখ বা তার বেশি ভিউজ: কোনো ভিডিওর ভিউ সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছালে তা থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
আয়ের সর্বোচ্চ সীমা (Cap): ভিডিওর ভিউজ ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেলেও ভিডিওপ্রতি আয়ের ঊর্ধ্বসীমা ১ লাখ টাকাই রাখা হয়েছে।
এই নতুন নীতি অনুযায়ী সব ধরনের ভাইরাল ভিডিওর জন্য অর্থ মিলবে না। কেবল বিহার সরকারের তথ্য ও জনসম্পর্ক বিভাগ (IPRD)-এর অধীনে তালিকাভুক্ত (Empaneled) সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটর ও নিবন্ধিত সংস্থাগুলিই এই সুযোগের আওতায় আসবেন। আগ্রহীদের বিহার সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক নীতি, সামাজিক সচেতনতা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে বস্তুনিষ্ঠ ও ইতিবাচক কনটেন্ট তৈরি করতে হবে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তালিকাভুক্ত চ্যানেল, পেজ বা অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার সংখ্যা সরকারিভাবে পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হবে। সাধারণত প্রধান প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ন্যূনতম ১ লক্ষ ফলোয়ার থাকা ক্রিয়েটররাই এই তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
কোনো ভিডিও আপলোড হওয়ার সাথে সাথেই অর্থ পাবেন না ক্রিয়েটররা। ভিডিও প্রকাশের ঠিক ৩০ দিন পর তার ভিউজ গণনা করা হবে। কনটেন্টের গুণমান, প্ল্যাটফর্ম সংক্রান্ত নীতি এবং ভিউজের সঠিকতা আইপিআরডি-এর পরিদর্শকরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন। সমস্ত যাচাইকরণ সফল হওয়ার পরেই চুড়ান্ত অর্থ ছাড় করা হবে। খুব শীঘ্রই তথ্য ও জনসম্পর্ক বিভাগের পক্ষ থেকে আবেদন প্রক্রিয়া ও বিশদ নির্দেশিকা প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। বিহার সরকারের এই উদ্যোগ একদিকে যেমন রাজ্যের তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের স্বনির্ভর হতে আর্থিক উদ্দীপনা জোগাবে, তেমনই সরকারি কাজ প্রচারের ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।