
Corporate Jihad Nashik: মহারাষ্ট্রের নাসিকে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। Nashik TCS BPO Case 'কর্পোরেট জিহাদ'-এর অভিযোগে তোলপাড়। বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি ও BPO সংস্থা TCS-কে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। TCS-এর নাসিকে কর্মরত একাধিক হিন্দু মহিলা কর্মীরা তাদের ওপর যৌন হেনস্থা ও ধর্মীয় চাপের অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযোগ, সংস্থায় কর্মরত কিছু টিম লিডার ও এইচআর কর্মীরা হিন্দু মহিলা কর্মীদের লক্ষ্য করে নিয়মিত হেনস্থা করতেন। নির্যাতিতাদের দাবি, তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, অশ্লীল মন্তব্য, এমনকি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে পরে ব্ল্যাকমেল করার ঘটনাও ঘটেছে। হিন্দু কর্মীদের নামাজ পড়তে বাধ্য করা সহ নানা ধর্মীয় বিষয়ে চাপও দেওয়া হত। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৯টি এফআইআর (FIR)দায়ের হয়েছে। ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত পুলিশের কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ জমা পড়েছে। এখনও পর্যন্ত এই কাণ্ডে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই বিষয়ে তদন্ত এগোতে থাকায় আরও অনেক নির্যাতিতা তাদের ওপর হওয়া অন্যায়ের ঘটনা নিয়ে এগিয়ে আসেন। বেশ কয়েক জন মহিলার অভিযোগের ফলে এটি বড় মামলায় পরিণত হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব দেখে মহারাষ্ট্র পুলিশ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে এবং বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। একে 'কর্পোরেট জিহাদ'-এর ঘটনা উল্লেখ করে দোষীদের ওপর কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হচ্ছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক, অশালীন আচরণ, কর্মীদের ধর্মীয় বিষয়ে সহ বেশ কিছু অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ, সেই সব হিন্দু মহিলাদের নমাজ পড়তে বাধ্য করা, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে বলা, এমনকি ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে চাকরি, পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধির প্রলোভন দেখিয়ে হিন্দু মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ কর।
দেখুন ভিডিও
নির্যাতিতাদের অভিযোগ, একাধিকবার HR-এর কাছে অভিযোগ জানালেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কয়েকজন কর্মীর পরিবার তাঁদের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করার পর বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনার পর নাসিক শহর পুলিশ গোপন অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যেই কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পুরো ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এদিকে, বিজেপির কয়েকজন নেতা এই ঘটনাকে "কর্পোরেট জিহাদ" বলে দাবি করেছেন। সংস্থার বাইরে প্রতিবাদও সংগঠিত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, যৌন হেনস্থা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং জোর করে ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে এখনও তদন্ত প্রক্রিয়া চলায় তারা এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি।