
অন্ধ্রপ্রদেশের কডাপা জেলায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে দু'জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ২০২২ সালের পর থেকে রাজ্যে কোভিডে মৃত্যুর এই ঘটনাগুলোই প্রথম। প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে ২৮ জুন ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজে (সিএমসি)। ৬০ বছর বয়সি ওই রোগীকে প্রথমে তিরুপতির শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এসভিআইএমএস)-এ ভর্তি করা হয়েছিল এবং পরে ভেলোরের সিএমসিতে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর আরটি-পিসিআর (RT-PCR) পরীক্ষায় তাঁর কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
দ্বিতীয় ঘটনায়, কডাপার মাসাপেটার বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তি ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর কডাপার সরকারি জেনারেল হাসপাতাল-রিমস (GGH-RIMS)-এ মারা যান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোভিড উপসর্গ নিয়ে ৪ জুলাই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং চিকিৎসা সত্ত্বেও চার দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে, মৃত ব্যক্তি ফুসফুসের গুরুতর সংক্রমণে (বাইলেটারাল লাং ইনফেকশন) ভুগছিলেন এবং তাঁর অতিরিক্ত মদ্যপানের ইতিহাস ছিল, যা সম্ভবত তাঁর শ্বাসযন্ত্রের অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছিল।
'দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া'-র তথ্যমতে, জেলায় আরও চারজন কোভিড-১৯ পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। উপসর্গ দেখে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ধারণা করছেন যে, ওমিক্রনের কোনও সাব-ভ্যারিয়েন্ট থেকে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকতে পারে। সংক্রমণের জন্য দায়ী ভ্যারিয়েন্ট বা ধরনটি শনাক্ত করতে মৃত দুই রোগীর নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (এনআইভি)-তে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, কডাপার আলমাসপেটের বাসিন্দা মাহবুব বাশার মৃত্যু জেলায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। তবে কডাপা জেলার কালেক্টর চেরুকুরি শ্রীধর স্পষ্ট করেছেন যে, ওই মৃত্যুর সঙ্গে কোভিড-১৯-এর কোনও সম্পর্ক ছিল না। তিনি আগে থেকেই হৃদযন্ত্র ও যকৃতের জটিলতায় ভুগছিলেন। কোভিডের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়নি।