
DA Central Government: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের ডিএ (Dearness Allowance)-এর জন্য অপেক্ষা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। বছরের তিন মাস পার হয়ে গেলেও সরকার এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। বর্তমান রীতি অনুযায়ী, হোলির কাছাকাছি সময়ে ডিএ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কিন্তু এই ক্রমাগত বিলম্বের কারণে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নানা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ের মতো সরকার আবারও ডিএ বৃদ্ধি স্থগিত করে দিতে পারে। তবে, সরকার এ বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত দেয়নি, বা কোনও সিদ্ধান্তও নেয়নি। যাইহোক, চলুন দেখে নেওয়া যাক কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ডিএ-এর কী হয়েছিল এবং কখন এর বৃদ্ধি প্রত্যাশিত।
কোভিড-১৯ মহামারীর সময় কী ঘটেছিল?
প্রকৃতপক্ষে, কোভিড-১৯ মহামারীর (২০২০-২১) সময়, সরকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে দেড় বছরের জন্য ডিএ (DA) স্থগিত করেছিল। এই ডিএ তিনটি কিস্তিতে (জানুয়ারি ২০২০, জুলাই ২০২০ এবং জানুয়ারি ২০২১) মোট ১৮ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। এর মানে হল ১৮ মাস ধরে কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের ডিএ-তে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। কর্মচারী ইউনিয়নগুলো বারবার এর দাবি জানালেও, সরকার আর্থিক কারণ দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে।
আবারও ভয় কেন?
ইরান এবং ইজরায়েল-আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ব পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এটি ভারতীয় অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এদিকে, তিন মাস পরেও ডিএ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না হওয়ায় কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের ভয় আরও বেড়েছে। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ শেষ হয়েছে। সুতরাং, এই বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে সপ্তম বেতন কমিশনের সমাপ্তি এবং অষ্টম বেতন কমিশনের শুরুকেই দায়ী করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় কর্মচারীরা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের, অর্থাৎ জানুয়ারি-জুন মাসের ডিএ-র জন্য অপেক্ষা করছেন। বর্তমানে, কেন্দ্রীয় কর্মচারীরা ৫৮% ডিএ পেয়ে থাকেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে প্রায় ২ থেকে ৩% ডিএ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলস্বরূপ, কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের ডিএ বেড়ে ৬০ বা ৬১% হবে। সাধারণত, এই ঘোষণা মার্চ মাসে (হোলির কাছাকাছি সময়ে) করা হয়, কিন্তু এবার মন্ত্রিসভা মার্চ মাসে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। এখন, ২০২৬ সালের এপ্রিলে এই ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এপ্রিলে ডিএ (DA) ঘোষণা করা হয়, তাহলে কর্মচারীরা জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চের বকেয়াও পাবেন। এটি এপ্রিলের বেতনের সঙ্গে জমা হবে।