
Delhi Building Collapse: ফের বাড়ি বিপর্যয় দেশের রাজধানী শহরে। সাকেতে পাঁচতলা একটি বাড়ি ধসে পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই, সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ দিল্লির বুরারি এলাকায় আরও একটি বাড়ি ভেঙে পড়ে। বুরারি এলাকার কৌশিক এনক্লেভে আচমকাই চারতলা আবাসিক বাড়ি ভেঙে পড়ার পর চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, বাড়ি ভেঙে পড়ার আগে বিস্ফোরণের মতো একটি বিকট শব্দ শোনা গিয়েছিল। যদিও তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কোনও বিস্ফোরণ নয়, কাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই ধসে পড়েছে বাড়িটি।
অস্কার পাবলিক স্কুলের কাছে ২০০ বর্গগজ জমির উপর সম্প্রতি নির্মিত হয়েছিল ওই চারতলা ভবন। মুহূর্তের মধ্যে ধুলো ও ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যায় গোটা এলাকা। আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল, পুলিশ, দিল্লি দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ) এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর একাধিক দল। দুর্ঘটনার পরই ধ্বংসস্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হয়। উদ্ধারকাজে নামেন উদ্ধারকারী কর্মীরা। প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অন্তত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
দেখুন ভিডিও
मुकुंदपुर इलाके में आज सुबह सिलिंडर ब्लास्ट के बाद एक मकान ढह गया। मकान 250 गज जगह में बना था। हादसे में चार से पांच लोग घायल हुए हैं। जिन्हें अस्पताल ले जाया जा चुका है। मलबे में कोई दबा हो सकता है। सर्च ऑपरेशन जारी है।@DelhiPolice @DDNewslive @aajtak #burari pic.twitter.com/6UrtUFTa0a
— Deepak Kumar Mudgal (@Mudgal12) June 2, 2026
সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যা। শেষ পর্যন্ত অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। মৃতদের মধ্যে দুই কিশোরী বোনও ছিল বলে জানা যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার মাঝেই আশার আলো দেখান উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসস্তূপের নীচে প্রায় ৩০ ঘণ্টা আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার করা হয় একই পরিবারের চার সদস্যকে। তাঁরা জানান, আটকে থাকা অবস্থায় মাত্র তিনটি টমেটো খেয়েই বেঁচে ছিলেন। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে হয় উদ্ধারকাজ। চারতলা বাড়ির বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ চালাতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বাড়ির মালিক তথা নির্মাতা যোগিন্দর কুমার ভাটির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। পরে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে খুন না হলেও মৃত্যুর কারণ ঘটানো, অবহেলা এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার তাগিদে নিরাপত্তা মানদণ্ড উপেক্ষা করা হয়েছিল। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও সামনে আসে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এই আবাসন ধসের ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলেছে দিল্লির বেআইনি ও নিম্নমানের নির্মাণ নিয়ে। এর আগেও রাজধানীতে একাধিক বাড়ি ধসের ঘটনা ঘটেছে। ফলে নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়মকানুন কার্যকর করা এবং নজরদারি বাড়ানোর দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
পুলিশ ও পুর কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্ত শুরু করে। কয়েক মাস পরে মালিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়, যেখানে একাধিক নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বুরারির এই বিপর্যয় এক দিকে যেমন কয়েকটি পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়েছে, তেমনই সমন্বিত উদ্ধার অভিযানের ফলে বহু প্রাণও রক্ষা পেয়েছে। একই সঙ্গে শহুরে এলাকায় নির্মাণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও ফের সামনে এনে দিয়েছে এই দুর্ঘটনা।