সিন্ধু চুক্তি স্থগিত হতেই চেনাব নদীতে প্রথমবার ড্রেজিং, নতুন করে প্রাণ ফিরছে সালাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে

Saborni Mitra   | ANI
Published : Feb 22, 2026, 08:26 PM IST
Dredging Begins in Chenab River to Boost Salal Power Station Efficiency Post Indus Treaty Suspension

সংক্ষিপ্ত

সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর এই প্রথমবার জম্মু ও কাশ্মীরের চেনাব নদীতে ড্রেজিং শুরু হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল রিয়াসি জেলার সালাল জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্ষমতা বাড়ানো। পলি জমে জলাধারের ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত হওয়ার পর এই প্রথমবার চুক্তির আওতায় থাকা হিমালয়ের নদীগুলিতে পলি সরানোর কাজ গতি পেয়েছে। এর মধ্যেই রয়েছে চেনাব নদী, যেখানে চুক্তির পর প্রথমবার ড্রেজিং শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, সিন্ধু জল চুক্তির নিয়ম মেনে যে ৬টি আন্ডার-স্লুইস গেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি পলি মুক্ত করে আবার খোলার জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়েছে।

সিন্ধু জল চুক্তির প্রভাব

এই চুক্তি স্থগিত হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় চেনাব নদীর ওপর অবস্থিত সালাল পাওয়ার স্টেশনে। সালাল পাওয়ার স্টেশনের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর অনিশ গরাহা ANI-কে জানিয়েছেন, "সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর আমরা পাওয়ার স্টেশনের কার্যক্ষমতা বাড়াতে একটি কার্যকর পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।" তিনি আরও বলেন, "এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কতটা বাড়বে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে এটা নিশ্চিত যে যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতি কমবে। পলি সরানোর জন্য ড্রেজিং একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে আমরা যতটা সম্ভব পলি সরিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে চাইছি। ফ্লাশিংয়ের মাধ্যমেও পলি কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।"

অনিশ গরাহা আরও জানান, "আগে যখন সিন্ধু জল চুক্তি কার্যকর ছিল, তখন আমরা এই সব পদক্ষেপ নিতে পারতাম না। যেমন, পলি সরানোর জন্য আমাদের ড্র-ডাউন ফ্লাশিং এবং ড্রেজিং করার অনুমতি ছিল না।"

৬টি আন্ডার-স্লুইস গেটের

সালাল কংক্রিট ড্যামটি পলি ব্যবস্থাপনার জন্য ৬টি আন্ডার-স্লুইস গেটের ব্যবস্থা রেখেই ডিজাইন করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি এবং পরে ১৯৭৮ সালের একটি চুক্তির আওতায় এই ৬টি গেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি সিল্ট এক্সক্লুডার গেটগুলির ব্যবহারও নিষিদ্ধ ছিল। পলি ব্যবস্থাপনার কোনও সুবিধা না থাকায় তখন থেকেই জলাধারে পলি জমতে শুরু করে।

এখন জমে থাকা পলি সরিয়ে এই গেটগুলি আবার খোলার চেষ্টা চলছে। এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর অনিশ গরাহা বলেন, "আমরা আন্ডার-স্লুইস গেটগুলি চালু করার জন্য একটি টেন্ডার ডেকেছি এবং সেই কাজ চলছে।" পাওয়ার স্টেশনটির জলাধারের আসল ধারণক্ষমতা ছিল ২৮৪.০০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার (MCM)। কিন্তু মে ২০২৫ সালের ব্যাথিমেট্রিক সমীক্ষা অনুযায়ী, তা কমে মাত্র ৯.৯১ MCM-এ দাঁড়িয়েছিল। তবে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর এবং পলি সরানোর কাজ শুরু হওয়ায়, জানুয়ারি ২০২৬ সালের হিসাবে এই ক্ষমতা বেড়ে ১৪ MCM হয়েছে।

এখন জলাধারের ক্ষমতা বাড়ানো এবং কার্যকর পলি ব্যবস্থাপনার জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, "সালাল ড্যামের জলাধার থেকে পলি তোলার জন্য NOC দেওয়া হয়েছে এবং কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১.৭ লক্ষ মেট্রিক টন পলি ড্রেজিং করে তোলা হয়েছে এবং তার মধ্যে ৬৮৪৯০ মেট্রিক টন সরিয়ে ফেলা হয়েছে।"

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Royal Enfield: নতুন রূপে আসছে কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০, কী কী বদলাচ্ছে?
‘অপারেশন ত্রাশি-I’-এর আসল সত্যি! মাটির ঘরে লুকিয়ে থাকা ২ জঙ্গিকে কীভাবে খতম করল সেনা?