
IMD Heatwave Alert: মে মাসের শেষ সপ্তাহ যত এগোচ্ছে, সারা দেশজুড়ে গরম ততই ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। মৌসম ভবনের (IMD) সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশের বড় অংশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ (Heatwave Alert India 2026) চলবে। কিছু জায়গায় শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, কিন্তু তাতে গরম কমার বদলে অস্বস্তি আরও বাড়বে।
দিনের বেলায় সূর্যের তেজ এতটাই বেশি থাকবে যে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য মনে হবে। অনেক শহরে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে, যা এই মরসুমের সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায় বলে মনে করা হচ্ছে। দিল্লিতে আজ তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার সম্ভাবনা। চলুন দেখে নেওয়া যাক, ২৬ মে ২০২৬-এর ওয়েদার আপডেট অনুযায়ী কোন শহরগুলো আজ সবচেয়ে বেশি পুড়বে।
২৬ মে আবহাওয়ার সবচেয়ে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি শহর। সেখানে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে বান্দা, অছলদা, অচনেরা, অরাইয়া এবং অজুহার মতো এলাকাগুলো আজ গোটা উত্তর ভারতে সবচেয়ে উষ্ণ থাকবে। এই জায়গাগুলিতে সকাল থেকেই তীব্র রোদ এবং গরম হাওয়ার দাপট শুরু হবে এবং দুপুরের মধ্যে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠবে। মধ্যপ্রদেশের ভোপাল এবং ঝাঁসির মতো শহরগুলোও পিছিয়ে নেই, যেখানে পারদ ৪২ থেকে ৪৭ ডিগ্রির মধ্যে থাকবে। এই পরিস্থিতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আজকের দিনটি 'সিভিয়ার হিট ডে' হতে চলেছে।
উত্তরপ্রদেশে আজ আবহাওয়া সম্পূর্ণ গরম এবং শুষ্ক থাকবে। অনেক জেলায় তাপপ্রবাহের জন্য রেড অ্যালার্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগ্রা, লখনউ, কানপুর, প্রয়াগরাজ এবং বারাণসীর মতো বড় শহরগুলিতে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের বেলায় রাস্তাঘাট আগুনের মতো তপ্ত থাকবে এবং বাতাসে আর্দ্রতার অভাবে শরীরে গরমের চাপ আরও বাড়বে। কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, কিন্তু তা স্বস্তি দেওয়ার বদলে গরম হল্কা বয়ে আনবে। রাতের তাপমাত্রাও খুব একটা কমবে না, যার ফলে 'ওয়ার্ম নাইট' পরিস্থিতি বজায় থাকবে এবং মানুষ পুরোপুরি স্বস্তি পাবে না।
বিহারের আবহাওয়ায় কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে যেমন গরমের চাপ থাকবে, তেমনই কিছু জেলায় আংশিক মেঘ এবং সামান্য অস্থিরতা দেখা যেতে পারে। পাটনায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকবে, তবে আর্দ্রতা অনেক বেশি অনুভূত হবে। অন্যদিকে সাসারাম এবং আরার মতো শহরগুলিতে তাপমাত্রা ৪৩ থেকে ৪৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকবে, যেখানে গরম তার চরমে পৌঁছবে। তবে ২৭ মের পর কিছু এলাকায় মেঘ জমে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু আপাতত পরিস্থিতি গরম এবং অস্বস্তিকরই থাকছে।
ঝাড়খণ্ডের আবহাওয়া পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। এখানে গরমের পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিবর্তনের ঝুঁকিও রয়েছে। রাঁচিতে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকবে, তবে সবচেয়ে বড় চিন্তা হল বজ্রপাত এবং ধুলোঝড়, যা হঠাৎ করে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে সক্রিয় হতে পারে। বানো (সিমডেগা) এর মতো এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ডালটনগঞ্জে তাপপ্রবাহের প্রভাব বজায় থাকবে, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে।
মধ্যপ্রদেশের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও গরম অত্যন্ত তীব্র। ভোপালে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে এবং লু-এর প্রভাব সারাদিন থাকবে। ইন্দোর এবং উজ্জয়নে আকাশ পরিষ্কার থাকবে, কিন্তু তীব্র রোদের কারণে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অনেক বেশি অনুভূত হবে। এখানে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, তাই আগামী কয়েকদিন গরম থেকে রেহাই পাওয়ার আশা কম।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়টা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ সংবেদনশীল। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টের মধ্যে বাইরে বেরোনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শরীরে জলের অভাব, হিট স্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়, তাই নিয়মিত জল পান করা এবং হালকা খাবার খাওয়া জরুরি। শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত, কারণ এই গরমে শরীর দ্রুত কাহিল হয়ে পড়তে পারে।
আগামী কয়েকদিন উত্তর ভারতে গরমের এই তীব্র দাপট জারি থাকার সম্ভাবনা। যদিও বিহার এবং ঝাড়খণ্ডে ২৭ মের পর আংশিক পরিবর্তন এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে, তবে উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশের বড় অংশে এখনও তাপপ্রবাহের চাপ বজায় থাকবে। তাপমাত্রায় বড় ধরনের কোনো পতনের সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না, অর্থাৎ মে মাসের এই শেষ সপ্তাহটা পুরোপুরি তীব্র গরমেই কাটবে।