
কেরলে শুরু হয়েছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর যৌথ সামরিক মহড়া 'অস্ট্রাহিন্দ ২০২৬' (AUSTRAHIND 2026)। এটি এই মহড়ার পঞ্চম সংস্করণ। জঙ্গল, দ্বীপ এবং উপকূলীয় এলাকায় দুই দেশের জওয়ানরা একসঙ্গে ঘাম ঝরাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে কমব্যাট সুইমিং, স্ট্যাটিক স্লিদারিং, অ্যামবুশ ড্রিল এবং ড্রোন চালানোর মতো কড়া প্রশিক্ষণ।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, গত ১৯ অক্টোবর তিরুবনন্তপুরমের ফরেন ট্রেনিং নোডে এই মহড়া শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত। ভারতীয় ও অস্ট্রেলীয় সেনার প্রায় ১২০ জন করে জওয়ান এতে অংশ নিচ্ছেন।
দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ানোই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি যুদ্ধের প্রস্তুতি, কৌশলগত দক্ষতা এবং ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিশ্বাস আরও মজবুত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
ভারতীয় সেনার পক্ষে গাড়োয়াল রাইফেলস এবং অন্যান্য শাখার জওয়ানরা এই মহড়ায় যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার দিক থেকে রয়েছে তাদের ১৩ ব্রিগেডের জওয়ানরা।
রাষ্ট্রসংঘের সপ্তম অধ্যায়ের নিয়ম মেনে 'দ্বীপ ও উপকূলীয় পরিবেশে যৌথ সাব-কনভেনশনাল অপারেশন'- এই থিমের ওপর ভিত্তি করে মহড়াটি চলছে। মূলত দ্বীপ ও উপকূলীয় এলাকায় কীভাবে একসঙ্গে অপারেশন চালানো যায়, তার কৌশল ও পদ্ধতি নিয়ে দুই বাহিনী নিজেদের মধ্যে ধারণা আদানপ্রদান করছে।
মহড়া চলাকালীন দুই দেশের জওয়ানরা একেবারে বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো করে যৌথ পরিকল্পনা ও কৌশলগত ড্রিল করবেন। আকাশ ও জলপথেও চলবে প্রশিক্ষণ। উপকূল ও দ্বীপ এলাকায় নজরদারি, গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর নিরাপত্তা দেওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কীভাবে একসঙ্গে উদ্ধারকাজ (HADR) চালানো যায়, তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
নিজেদের কাজের অভিজ্ঞতা ও সেরা কৌশলগুলো একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করছেন জওয়ানরা। এতে দুই বাহিনীর কাজের মান আরও বাড়বে। শারীরিক কসরতের পাশাপাশি ড্রোন চালানোর মতো আধুনিক প্রযুক্তিও এই মহড়ার অংশ।
এবারই প্রথম 'অস্ট্রাহিন্দ ২০২৬'-এ নিউজিল্যান্ডের একটি প্রতিনিধি দল পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দিচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক এই সামরিক মহড়ায় এটি একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৩ থেকে ২৬ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার পার্থের আরউইন ব্যারাকে এই মহড়ার চতুর্থ সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, 'অস্ট্রাহিন্দ ২০২৬' ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা আরও বাড়াবে। পাশাপাশি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে দুই দেশের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা আরও জোরালো হবে।