
রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (UNHRC) ৬১তম অধিবেশনে ভারতের সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষা এবং প্রসারের পরিবর্তিত নীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইকো ফন সোসাইটির (ECO FAWN Society) সিইও সাই সম্পথ মেট্টু একটি ভিডিও বিবৃতির মাধ্যমে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। সাংস্কৃতিক অধিকার সংক্রান্ত বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারের সঙ্গে একটি আলোচনাচক্রে তিনি জানান, ভারত এখন সংস্কৃতিকে শুধুমাত্র ঐতিহ্য হিসেবে নয়, বরং শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দেখছে।
আলোচনাচক্রে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেট্টু জোর দিয়ে বলেন, ভারত বিশ্বজুড়ে সাংস্কৃতিক আলোচনায় একটি অধিকার-ভিত্তিক এবং সহযোগিতামূলক নীতি নিয়ে চলছে। এর মূল লক্ষ্য হল সাংস্কৃতিক কার্যকলাপে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো, ঐতিহ্য রক্ষা করা এবং শিল্পীদের আরও শক্তিশালী করা।
বিবৃতিতে ইউনেস্কো মনডিয়াকল্ট ২০২৫ (UNESCO Mondiacult 2025)-এ ভারতের সক্রিয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়। এই সম্মেলনে সারা বিশ্বের নীতিনির্ধারক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা একত্রিত হয়েছিলেন। সেখানে ভারত সাংস্কৃতিক অধিকার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রভাব এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংস্কৃতির ভূমিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেছিল।
আলোচনায় আরও বলা হয়, ভারত ২০৩০-পরবর্তী উন্নয়ন কর্মসূচিতে সংস্কৃতির জন্য একটি নির্দিষ্ট বিশ্বব্যাপী লক্ষ্যমাত্রা রাখার জন্য সওয়াল করছে। এই ধরনের একটি লক্ষ্যমাত্রা থাকলে আন্তর্জাতিক নীতিতে সাংস্কৃতিক স্থায়িত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হবে। পাশাপাশি, বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্য সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করা যাবে।
ভারত শিল্পী ও নির্মাতাদের জন্য মেধাস্বত্ব (intellectual property rights) সুরক্ষার উপর কতটা জোর দেয়, সেই বিষয়টিও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়। বলা হয়েছে, সৃজনশীল ক্ষেত্রকে টিকিয়ে রাখতে এবং শিল্পীরা যাতে তাঁদের কাজের জন্য স্বীকৃতি ও ন্যায্য পারিশ্রমিক পান, তা নিশ্চিত করতে তাঁদের অধিকার রক্ষা করা অপরিহার্য।
বিবৃতিতে ইউনেস্কোর কাঠামোর অধীনে ভারতের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার কথাও স্বীকার করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত। মেট্টু উল্লেখ করেন, এই প্রচেষ্টাগুলো প্রমাণ করে যে ভারত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বক্তব্যের শেষে মেট্টু সরকার, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি সদস্য দেশগুলিকে ডিজিটাল মাধ্যমে সকলের অংশগ্রহণ বাড়ানো, ঐতিহ্য পরিচালনায় স্থানীয় মানুষের ভূমিকা শক্তিশালী করা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল সাংস্কৃতিক জগতে নির্মাতাদের জন্য সুরক্ষা বাড়ানোর জন্য উৎসাহিত করেন।