
দেশে তেল-গ্যাসের জোগান নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, দেশে প্রায় দু'মাসের জন্য অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং এলএনজি মজুত রয়েছে। তাই গ্রাহক বা শিল্প—কারও উদ্বেগের প্রয়োজন নেই।
এক আন্তঃমন্ত্রক বৈঠকে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত করছে। সুজাতা শর্মা বলেন, "আমাদের শোধনাগারগুলি সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে। কিছু রিটেল আউটলেটে এখনও বিক্রি বেশি হচ্ছে, কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি মসৃণ সরবরাহ বজায় রাখছে।" জ্বালানি মজুত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শর্মা বলেন, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, "আমার মনে হয়, গত তিন মাস ধরেই আমরা এই প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি। আর প্রতিবারই আমরা আপনাদের বলছি যে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরকার সব সময় চেষ্টা করছে যাতে পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ সমস্ত গ্রাহকের কাছে ন্যূনতম অসুবিধায় পৌঁছে দেওয়া যায়।" স্টকের বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়ে তিনি যোগ করেন, "আমাদের কাছে প্রায় দু'মাসের জন্য স্টক এবং রোলিং স্টক প্রস্তুত রয়েছে।"
তবে, জ্বালানির দাম ভবিষ্যতে কী হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, "দাম নিয়ে ভবিষ্যতে কী হবে, সে বিষয়ে আমি এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করতে পারব না।"
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, গত তিন দিনে প্রায় ১.৪০ কোটি রান্নার গ্যাসের (ডমেস্টিক এলপিজি) সিলিন্ডার বুক করা হয়েছে এবং ১.৪৯ কোটি সিলিন্ডার ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। শর্মা জানান, "এই একই সময়ে প্রায় ২২,৩৪০ টন বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রি হয়েছে।"
মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে প্রায় ১.৯১ লক্ষ। মার্চ মাস থেকে প্রায় ৯.৪২ লক্ষ বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস (পিএনজি) সংযোগ দেওয়া হয়েছে, ৩.১২ লক্ষ সংযোগের জন্য পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে এবং ৯.৪৪ লক্ষ নতুন গ্রাহক নথিভুক্ত হয়েছেন।
সরকার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, যেখানে পাইপলাইনে গ্যাসের সুবিধা রয়েছে, সেখানে যেন স্থানীয় প্রশাসন গ্যাস সংস্থাগুলির সঙ্গে মিলে গ্রাহকদের এলপিজি থেকে পিএনজি সংযোগে সরে আসতে উৎসাহিত করে। শর্মা গ্রাহকদের আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা না করে জ্বালানি দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবহার করার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, "দয়া করে আপনার আসল প্রয়োজন অনুযায়ী পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি সিলিন্ডার কিনুন এবং গুজব এড়িয়ে চলুন। যেখানে সম্ভব, বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহার করুন এবং শক্তি সঞ্চয় করুন।"