
কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী রাম মোহন নায়ডু মঙ্গলবার বলেন, রিজনাল এয়ার কানেক্টিভিটি স্কিম 'উড়ে দেশ কা আম নাগরিক' (UDAN) অনুযায়ী আগামী ১০ বছরে দেশে ৩০,০০০ কোটি টাকা খরচে ১০০টি নতুন বিমানবন্দর তৈরি করা হবে। রাম মোহন নায়ডু গুজরাটের আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ভারতের তৃতীয় 'হাব অ্যান্ড স্পোক' সার্ভিসের উদ্বোধন করেছেন। অনুষ্ঠানে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সংঘভীও উপস্থিত ছিলেন।
আহমেদাবাদ বিমানবন্দর ভারতের তৃতীয় 'হাব অ্যান্ড স্পোক' সার্ভিসযুক্ত এয়ারপোর্ট হয়ে গিয়েছে, যার উদ্দেশ্য হল দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা যাত্রীদের ভারতীয় বিমানবন্দরগুলোকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত করা। জানা যায়, বারাণসী বিমানবন্দর দেশটির প্রথম বিমানবন্দর ছিল, যেখানে এই সার্ভিস শুরু হয়েছিল। এর পরে, আমৃতসর বিমানবন্দরে এই সার্ভিস গত জুলাই মাসে চালু করা হয়।
হাব এবং স্পোক সার্ভিস কী
হাব এবং স্পোক সার্ভিস, এভিয়েশন সেক্টরে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় অপারেশনাল মডেল। এই সার্ভিসের আওতায়, একটি বড় এয়ারপোর্টকে হাব হিসেবে পরিচালনা করা হয়। আর ছোট বিমানবন্দরগুলোকে স্পোক হিসেবে পরিচালনা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনও যাত্রীর অযোধ্যা থেকে লন্ডন যেতে হবে। এখানে অযোধ্যা একটি স্পোক এয়ারপোর্ট, তাই সে প্রথমে স্পোক এয়ারপোর্ট থেকে হাব এয়ারপোর্ট অর্থাৎ আহমেদাবাদে আসবে এবং তারপর আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের সংযোগকারী ফ্লাইটে যাত্রা করবে।
নাগরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী বলেছেন, ''২০১৪ সালে ভারতের ৭৪টি বিমানবন্দর ছিল, আর আজ দেশে বিমানবন্দরগুলোর সংখ্যা ১৬৬। বিমানবন্দরের সংখ্যা ৭৪ থেকে ১৬৬-এ পৌঁছানো দেশের জন্য একটি রেকর্ড। গত ১২ বছরে প্রায় প্রতি ৪০ দিনে একটি নতুন বিমানবন্দর অথবা নতুন টার্মিনালের কাজ শেষ হয়েছে।''
তাঁরা বলেছেন যে নাগরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের গত ১২ বছরের যাত্রা এখনও শুরু মাত্র। গত এক দশকে 'উড়ান' পরিকল্পনার মাধ্যমে বিমানভ্রমণ ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন এসেছে তা এগিয়ে নিয়ে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা খরচ করে ১০০টি নতুন বিমানবন্দর তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই বছরের মার্চে রিজিওনাল এয়ার কানেক্টিভিটি স্কিমের সংশোধিত খাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি অর্থবছর ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩৫-৩৬ পর্যন্ত ১০ বছরের জন্য প্রয়োগ করা হবে। এর জন্য কেন্দ্রের বাজেটিয় সহায়তার সঙ্গে মোট ২৮,৮৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।