
পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল যাতে সুরক্ষিত ও অবাধ থাকে, তার জন্য শুক্রবার আবার আর্জি জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা ওই অঞ্চলের অস্থিরতার ওপর কড়া নজর রাখছে।
সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নয়াদিল্লি বিশ্বজুড়ে তার সহযোগীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছে। তিনি বলেন, "আমরা পশ্চিম এশিয়ার সব পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল যাতে সুরক্ষিত ও অবাধ থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা আবেদন জানাচ্ছি।"
নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে মুখপাত্র জানান, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে আসা চারটি জাহাজ সফলভাবে ওই কৌশলগত জলপথ পার করেছে। তিনি আরও বলেন, "আমরা আপনাদের জানিয়েছি যে ভারতের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী পার করেছে। সম্প্রতি চারটি এলপিজি বোঝাই জাহাজ নিরাপদে ভারতে এসে পৌঁছেছে। আমাদের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে এবং জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।"
জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত রাখার কৌশল নিয়ে জয়সওয়াল ব্যাখ্যা করেন যে, ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দেখেই জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, "আমাদের দেশের মানুষের চাহিদা, বাজারের অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নিই। এই বিষয়গুলোই আমাদের পথ দেখায়।" তবে এই সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত প্রশ্নগুলি তিনি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রককে জিজ্ঞাসা করতে বলেন।
এই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপেও উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ২৬-২৭ মার্চ ফ্রান্সে জি-৭ বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। সেখানে তিনি ফ্রান্স, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির বড়সড় সংস্কারের দাবি জানান। জয়শঙ্কর "রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি পরিবর্তন, শান্তিরক্ষা অভিযানের আধুনিকীকরণ এবং মানবিক সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার" ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি খাদ্য ও জ্বালানি সুরক্ষার বিষয়ে 'গ্লোবাল সাউথ'-এর দেশগুলির উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন।
অন্য একটি অধিবেশনে পশ্চিম এশিয়া সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর ঝুলে থাকা "অনিশ্চয়তার" বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান সংঘাতের প্রভাব কমাতে আরও "স্থিতিশীল বাণিজ্য করিডোর এবং সরবরাহ ব্যবস্থা" গড়ে তোলার আহ্বান জানান।