
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি আগামী মাসে প্রথমবার সরকারি সফরে ভারতে আসছেন। তাঁর সফর হওয়ার কথা ১ থেকে ৩ জুলাই। মঙ্গলবার সকালে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কিছু "লজিস্টিক সমস্যার" কারণে তাঁর সফর সম্ভবত নয়াদিল্লিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
সূত্র অনুযায়ী, দিল্লি ছাড়াও গুয়াহাটিকেও এই সফরের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ভাবা হয়েছিল এবং জাপানকে সেই প্রস্তাব দেওয়াও হয়েছিল।
সূত্রটি জানিয়েছে, "প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির নিজের দেশে বেশ কিছু কাজ থাকায় তাঁর ভারত সফরের সময়সীমা খুবই কম। এর সঙ্গে রাজধানীর বাইরে সফরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লজিস্টিক সমস্যাও রয়েছে। এই সব দিক বিচার করে বৈঠকটি দিল্লিতেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।" এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার জন্য দুই দেশই কিছু বিশেষ অনুষ্ঠান রাখতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী ১ জুলাই গুয়াহাটি সফরে আসতে পারেন।
মঙ্গলবার এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে অসমের মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, "আগামী ১ জুলাই থেকে জাপানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি গুয়াহাটি সফরে আসতে পারেন। এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজির সঙ্গে তাঁর শীর্ষ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।"
সম্প্রতি জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল যে তাকাইচি জুলাইয়ের শুরুতে অসম সফরে আসছেন। জাপানের সংবাদপত্র 'নিক্কেই'-এর ১৮ জুনের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে ৫০টিরও বেশি জাপানি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা থাকবেন।
এদিকে, জাপানের সরকারি সংবাদমাধ্যম এনএইচকে (NHK)-র একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকে নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। গত বছর মোদীর জাপান সফরের সময় ঘোষিত 'আগামী দশকের জন্য ভারত-জাপান যৌথ ভিশন'-এর উপর ভিত্তি করেই এই আলোচনা এগোবে।
এই মাসের শুরুতে ফ্রান্সে জি-৭ (G7) সম্মেলনের ফাঁকে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী জোর দিয়ে বলেছিলেন যে ভারত ও জাপান বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও গভীর করবে। এর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অগ্রাধিকার পাবে।
তাকাইচি হলেন জাপানের প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের অনুগামী এবং দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের জন্য আবের গুয়াহাটি আসার কথা ছিল, কিন্তু সেই সফর স্থগিত হয়ে যায়।