
বেপরোয়া গতিতে চলা ল্যাম্বারগিনির ধাক্কায় ছিটকে গেল ৬ জন পথচারী। গাড়িতে চালকের আসনে ছিলেন স্থানীয় বিজনেজ টাইকুনের ছেলে। উত্তরপ্রদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কানপুরের ভিআইপি রোডে এক তামাক ব্যবসায়ীর ছেলের চালানো দ্রুতগতির ল্যাম্বরগিনি গাড়ির ধাক্কায় পথচারী ও এক মোটরসাইকেল আরোহীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি সোমবারের, যখন বিলাসবহুল গাড়িটি এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মারে এবং একাধিক পথচারীকে ধাক্কা মেরে আহত করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনায় জড়িত গাড়িটিকে গোয়ালটোলি থানা বাজেয়াপ্ত করেছে এবং আরও তদন্ত চলছে।
সোমবার এএনআই-এর সঙ্গে কথা বলার সময়, এক প্রত্যক্ষদর্শী, সত্যেন্দ্র সিং চান্ডেল, ঘটনা এবং তার পরের পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন যে দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই চালককে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। "গতকাল ভিআইপি রোডে একটি বিলাসবহুল গাড়ি কয়েকজনকে ধাক্কা মারে। আমি শুনেছি যে বিলাসবহুল গাড়ির চালকের কিছু বাউন্সার গাড়ির জানালা ভেঙে চালককে বের করে আনে। তারা তাকে অন্য একটি গাড়িতে করে নিয়ে যায়। ল্যাম্বরগিনি গাড়িটিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় প্রায় চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন।"
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে গাড়িতে ছিলেন স্থানীয় কোটিপতি ব্যবসায়ী কেকে মিশ্রের পুত্র শিবম মিত্র। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর রুজু করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জনবহুল রাস্তা দিয়ে তীব্র গতিতে ছোটাচ্ছিলেন ল্যাম্বারগিনি গাড়িতে। সেই সময়ই ল্যাম্বারগিনির ধাক্কায় একটি বাইক আরোহী প্রায় ১০ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে। বাইকটি ঠেলে গাড়িতে কিছু দূর পর্যন্ত যায়। তারপরই একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা খায়। সেই সময়ই গাড়িটি থেমে যায়।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে গাড়িটি দুর্ঘটনার সময় চালাচ্ছিলেন কেকে মিশ্রের ছেলে শিবম মিশ্র। তীব্র গতিতে চলার কারণেই গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই ঘটনার পরেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা গাড়ি ঘিরে ধরে। সেই সময় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিবম মিশ্রকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় থানা। আহতদেরও উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য পাঠান হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ল্যাম্বারগিনি গাড়িটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় প্রথমে পুলিশ এফআইআর করতে চায়নি। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু জনতার চাপে শেষ পর্যন্ত হারমানে পুলিশ।