
কর্নাটকের ধারওয়াড়ের একটি সুরক্ষিত আবাসনে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। দীর্ঘক্ষণ ফোন করেও সাড়া না পেয়ে আত্মীয়রা জোর করে ফ্ল্যাটে ঢুকতেই যা দেখলেন, তাতে চমকে ওঠেন সকলে। ঘরের মেঝেয় রক্তের মধ্যে পড়েছিলেন ৪৫ বছর বয়সি চিকিৎসক ডাঃ কিরণ হোনান্নাভার, যিনি পেশায় ছিলেন অ্যানাস্থেটিস্ট। পাশের ঘরে আহত অবস্থায় পড়েছিল তাঁদের আট বছরের ছেলে। আর শিশুটির মা, যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক, বিছানায় বসে মোবাইল ফোন স্ক্রল করছিলেন।
প্রতিবেশীদের খবরে পুলিশ পৌঁছয় ধারওয়াড় বিশ্ববিদ্যালয় রোডের রাঙ্কা স্টেলো অ্যাপার্টমেন্টে। বেঙ্গালুরু থেকে ৪৩৫ কিলোমিটার দূরের এই আবাসনে গিয়ে পুলিশ দেখে, ডাঃ হোনান্নাভারের গলায় ছুরির একাধিক গভীর আঘাত রয়েছে। তাঁর ছেলের শরীরেও গুরুতর ছুরির ক্ষত থাকলেও সে তখনও শ্বাস নিচ্ছিল, দ্রুত তাকে এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রিয়াঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। হুবলি-ধারওয়াড় পুলিশ কমিশনার এন শশীকুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে কোনও বহিরাগত ব্যক্তির ফ্ল্যাটে প্রবেশের প্রমাণ মেলেনি। ওই আবাসন অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে শুধু দম্পতি ও তাঁদের সন্তানই ছিলেন।
ভিতরের একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ডাঃ হোনান্নাভার মৃত অবস্থায় উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছেন। অন্য একটি ঘরে ছেলেটিকে মেঝেয় পড়ে থাকতে দেখা যায়, তার শরীরে কিছু জামাকাপড় রাখা ছিল। ওই একই ঘরে বিছানায় শুয়ে মোবাইল ফোন স্ক্রল করছিলেন ডাঃ প্রিয়াঙ্কা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই ডাঃ হোনান্নাভারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন আত্মীয়রা। কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, ডাঃ প্রিয়াঙ্কা ফোন ধরলেও বারবার ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেন— কখনও বলেন স্বামী বিশ্রাম নিচ্ছেন, কখনও বলেন তিনি বাইরে গিয়েছেন। যোগাযোগ স্থাপন না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সরাসরি ফ্ল্যাটে পৌঁছে গোটা ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। তদন্তকারীদের মতে, ডাঃ প্রিয়াঙ্কা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁর বয়ানেও অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ, পাশাপাশি দুই পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদও চলছে। সাবার্বান থানায় খুনের মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে পারিবারিক বিবাদ, তবে সঠিক কারণ ও ঘটনাক্রম এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
জানা গিয়েছে, শিশুটি অটিজম আক্রান্ত বলে দাবি করা হলেও পুলিশ এখনও তা নিশ্চিত করেনি। ডাঃ হোনান্নাভারের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ঘটনার আরও স্পষ্ট চিত্র উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোনও বিবাদের প্রমাণ এখনও পর্যন্ত মেলেনি। তদন্ত চলছে।