
Kerala Man Returns From Death Row: প্রায় দু'দশক মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় সৌদি আরবের কারাগারে কাটানোর পর অবশেষে দেশে ফিরলেন কেরলের বাসিন্দা আবদুল রহিম। ঈদের মাঝে তাঁর এই ঘরে ফেরা ঘিরে আবেগে ভাসছে গোটা পরিবার। কেরলের কোঝিকোড় জেলার রামানাট্টুকারার কোডাম্পুঝার বাসিন্দা রহিমকে স্বাগত জানাতে বাড়িতে জড়ো হয়েছিলেন আত্মীয়-পরিজন ও প্রতিবেশীরা। দীর্ঘ ২০ বছরের লড়াইয়ের শেষে ছেলেকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পরিবার। অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর মামলায় ২০ বছরের কারাবাস, অবশেষে মুক্তি রহিমের ৩৪ কোটি টাকায় বাঁচল প্রাণ। ২০ বছর পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে আবেগে ভাসল পরিবার।
২০০৬ সালে পেশায় গাড়িচালক আবদুল রহিম কাজের সূত্রে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছনোর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ঘটে যায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা। অভিযোগ, গাড়ি চালানোর সময় অসাবধানতাবশত তিনি তাঁর স্পনসরের ছেলের লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে হাত দিয়ে ফেলেন। সেই ঘটনার জেরেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের। সৌদি আইনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় এবং পরে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়।
দেখুন ভিডিও
After 20 years in a Saudi jail, Kozhikode native Abdul Rahim returned home to Kerala. Malayalis worldwide united through the “Save Abdul Rahim” campaign and raised Rs 34 crore in blood money, securing his release. pic.twitter.com/uQyZ4k37Dj
— TheNewsMinute (@thenewsminute) May 28, 2026
তারপর থেকেই সৌদির জেলে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর কাটাতে হয় তাঁকে। পরিবার সূত্রে খবর, রহিমের মুক্তির জন্য একাধিকবার আইনি লড়াই চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত 'দিয়াত' বা ব্লাডমানি দেওয়ার পথেই সমাধান আসে। সৌদি আরবে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ হিসেবে 'ব্লাডমানি' দেওয়ার আইন প্রচলিত রয়েছে। সেই আইনের আওতাতেই মৃতের পরিবারকে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়।
এই বিপুল অর্থ জোগাড় করতে পরিবারকে অসীম সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। আত্মীয়-পরিজন, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন মহলের সাহায্যে শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ সংগ্রহ সম্ভব হয়। তারপরই রহিমের মুক্তির পথ খুলে যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তিনি দেশে ফেরেন। ঈদের সময় বাড়ি ফেরায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় রহিমের পরিবারে। এত বছর পর ছেলেকে সামনে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশীরাও তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
এই ঘটনা ফের একবার বিদেশে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকদের নানা ঝুঁকি ও আইনি জটিলতার বিষয়টি সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলিতে কাজ করতে যাওয়া বহু শ্রমিককে কঠোর আইন এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্যের মুখোমুখি হতে হয়। আবদুল রহিমের ঘটনা দেখিয়ে দিল, একটি অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা কীভাবে একজন মানুষের জীবনের দুই দশক কেড়ে নিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত পরিবারের লড়াই, আর্থিক সহায়তা এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন করে জীবনে ফেরার সুযোগ পেলেন আবদুল রহিম। তাঁর ঘরে ফেরা এখন কেরলজুড়ে মানবিকতার এক আবেগঘন অধ্যায় হয়ে উঠেছে।