
Mamata Banerjee Congress: রাজনীতির অঙ্ক যে কখন কোথায় বদলে যায়, সেটা বোঝা দায়। এই যেমন বৃহস্পতিবার দিনটা দেশের রাজনীতির জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee congress)। বুধবার, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও বৈঠক সেরেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (india bloc meeting)।
আর তারপরেই সম্ভবত বড় সিদ্ধান্তের পথে কংগ্রেস হাইকমান্ড। দলের তরফ থেকে বৃহস্পতিবার সব রাজ্যের নেতাদের নিয়ে দিল্লিতে জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সদলবলে তাঁর সহযোগী নেতাদের নিয়ে কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন অথবা তৃণমূল কংগ্রেসকেই পুরোপুরিভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে পারেন। মানে যাদের হাত ছেড়ে বেরিয়ে এসে তৃণমূল তৈরি করেছিলেন, আবার তাদের সঙ্গেই মিলে গিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা!
তবে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে আরেকটা কোথাও। সেটা হচ্ছে যে, মমতা এবং অভিষেকের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে বেশ লম্বা আলোচনা হয়েছে দুই দলের নেতাদের শীর্ষস্তরের একটি বৈঠকে। এমনকি, কংগ্রেসের তরফ থেকে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় স্তরে কোনও বড় পদ দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেটা সহ-সভাপতি হওয়ারই সম্ভাবনা প্রবল।
অভিষেকের ক্ষেত্রেও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের মতো কোনও বড় পদের কথা ভাবা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আর এই সবকিছুর মাঝেই বৃহস্পতিবার, জরুরি তলব। দেশের সমস্ত রাজ্যের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদেরকে দিল্লির ইন্দিরা ভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডেকে পাঠিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিসে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। তারপরেই জল্পনা আরও বাড়তে শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার বিজেপি-এনডিএ বিরোধী মঞ্চ ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর ঠিক পাশের চেয়ারেই বসেন মমতা। অপরদিকে, সোনিয়ার ডানদিকে বসেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
উল্লেখ্য, একটা সময় বিরোধী জোটের বৈঠকে প্রধান মুখ হিসেবে রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গেদের পাশাপাশি থাকতেন নীতীশ কুমার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, এমকে স্ট্যালিন এবং সীতারাম ইয়েচুরিরা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে, এই দলগুলির রাজনৈতিক অবক্ষয় এবং কংগ্রেসের সঙ্গে মনোমালিন্য, সবমিলিয়েি বিরোধী জোটের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা বদলেছে।
মমতার সঙ্গে রাহুল এবং সোনিয়ার সখ্যতা বেড়েছে অনেকটাই। হারের পর এবং সোনারপুরে অভিষেকের উপর হামলার পর, রাহুল গান্ধী আলাদা করে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কিন্তু আক্ষরিক অর্থে দেখতে গেলে ইন্ডিয়া জোট আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়েছে। তার কারণ, বিজেপি বিরোধী জোটে থাকা একাধিক দল নানা রাজ্যে পরাজিত হয়েছে এবং কয়েকটি দল এই ব্লক থেকে বেরিয়েও গেছে।
পাশাপাশি বর্তমান আঞ্চলিক রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেসের সঙ্গে শরিকদের দ্বন্দ্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন আম আদমি পার্টি নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তারা সোমবারের বৈঠকেও যোগ দেয়নি। আবার সিপিএম এবং ডিএমকে-র সঙ্গেও কংগ্রেসের বনিবনা হচ্ছে না। কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে ইডি-র তল্লাশিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের উপরেও রীতিমতো ক্ষুব্ধ কেরালার সিপিএম রাজ্য কমিটি। এমনকি, বেশ কিছু নীতির বিরোধিতাও করেছে তারা।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হতেই ডিএমকে-র হাত ছেড়ে দিয়েছে কংগ্রেস। তারা সরাসরি টিভিকে-র সঙ্গে জোটে নাম লিখিয়েছে। এই মুহূর্তে তামিলনাড়ুতে টিভিকে সরকারের অন্যতম শরিক হল কংগ্রেস। ফলে, ভোটের পর থেকেই ডিএমকে এবং কংগ্রেসের সম্পর্ক খারাপ জায়গায় গেছে। অতএব, শক্তিশালী বিরোধী মুখ হিসেবে এই মুহূর্তে মমতার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। তাহলে কি সেই কারণেই, কোনও বড় সিদ্ধান্তের পথে কংগ্রেস?
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।