
Nashik Simhastha Kumbh 2027: বিশ্বরেকর্ড গড়ার লক্ষ্য। পবিত্র গোদাবরী নদীর দুই পাড়ে একসঙ্গে জ্বলে উঠল হাজার হাজার প্রদীপ। মন্ত্রোচ্চারণ আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হল নদীর ঘাট। শনিবার সন্ধ্যায় মহা গোদা আরতির এমনই এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের সাক্ষী থাকল মহারাষ্ট্রের নাসিক। প্রায় সাড়ে ছ'হাজার আদিবাসী মহিলা-পুরুষের অংশগ্রহণে এই বিশেষ আরতির আয়োজন করা হয়। ২০২৭ সালের নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলার সূচনাকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই উদ্যোগ। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্যেও নজর ছিল আয়োজকদের।
আজ, শনিবার নাসিকের রামকুণ্ড ও পঞ্চবটী সংলগ্ন ঘাটে এই মহা আরতির আয়োজন করে নাসিক জেলা প্রশাসন এবং রামতীর্থ গোদাবরী সেবা সমিতি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এ দিন দুপুরেই নাসিকের রামকুণ্ড এবং ত্র্যম্বকেশ্বরের কুশাবর্ত তীর্থে একযোগে ধ্বজারোহণের মাধ্যমে সিংহস্থ কুম্ভের প্রথাগত সূচনা হয়।
দেখুন ভিডিও
#WATCH | Maharashtra | Around 6,500 tribal people from 650 different villages in Nashik are attempting a Guinness World Record by reciting the Godavari Aarti.
Representatives from Guinness World Records are also present to verify the attempt. https://t.co/KoFqqUFUvs
— ANI (@ANI) October 31, 2026
এই মহা আরতিতে যোগ দিতে নাসিকের সাতটি তালুকের প্রায় ৬৫০টি আদিবাসী গ্রাম ও পাড়া থেকে হাজির হয়েছিলেন ৬,৫০০-রও বেশি প্রতিনিধি। পেঠ, সুরগানা, ত্র্যম্বকেশ্বর, দিন্দোরি এবং নিফাড়-সহ বিভিন্ন এলাকার আদিবাসী মহিলা ও পুরুষরা অংশ নেন এই অনুষ্ঠানে। এত বড় মাপের আয়োজন যাতে সুশৃঙ্খল ভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য গত তিন মাস ধরে তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। আরতির প্রতিটি ধাপ, ছন্দ এবং সমন্বয় নিয়ে চলেছিল প্রস্তুতি।
দেখুন ভিডিও
A world record attempt for the Godavari River Aarti is underway at Ramkund in Nashik.
Representatives of Guinness World Records are also present at the venue.
#GuinnessWorldRecords
— All India Radio News (@airnewsalerts) October 31, 2026
একমুখী দত্ত মন্দির থেকে রোকডোবা মন্দির পর্যন্ত রামকুণ্ডের দুই পাড় জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রদীপের আলো। একসঙ্গে হাজার হাজার মানুষের আরতি, সমবেত মন্ত্রোচ্চারণ এবং আলোর ঝলকানিতে তৈরি হয় এক অনন্য পরিবেশ। গোটা অনুষ্ঠান খুঁটিয়ে দেখতে উপস্থিত ছিলেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিনিধিরা। তাঁদের নজরদারিতেই নথিভুক্ত করা হয় অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ও অনুষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্য। চূড়ান্ত যাচাইয়ের পরই রেকর্ডের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।
প্রসঙ্গত, কুম্ভমেলার প্রস্তুতি পর্বে এর আগে ৫০১ জন শঙ্খবাদকের সমবেত শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে রেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে মহা গোদা আরতির লক্ষ্য শুধু বিশ্বরেকর্ড তৈরি নয়। আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বৃহত্তর মঞ্চে তুলে ধরা, সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং নদী সংরক্ষণে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাও এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যেই আরতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে অংশগ্রহণকারী ৬৫০টি গ্রামে। জলদূষণ রোধ এবং প্রাকৃতিক জলাশয় ও জলসম্পদ রক্ষার সচেতনতা বাড়াতে ওই গ্রামগুলিতেও স্থানীয় ভাবে নদী আরতির আয়োজন করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি এবং বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে গোটা এলাকা জুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা। সব মিলিয়ে ভক্তি, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং পরিবেশ সচেতনতার মেলবন্ধনে নাসিকের মহা গোদা আরতি হয়ে উঠল আসন্ন সিংহস্থ কুম্ভের অন্যতম আকর্ষণ।