
সংসদে সাংসদদের আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের চিঠি লিখলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁর সাফ কথা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা যেন বজায় রাখা হয়। সম্প্রতি সংসদ চত্বরে এবং অধিবেশন কক্ষে যেভাবে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ হয়েছে, তার উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, সাংসদরা সংসদের সম্মানহানি করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে সংসদ হলো আলোচনা, মতৈক্য, ভিন্নমত এবং বিতর্কের জায়গা। তাঁর কথায়, "দেশের সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও সম্মান বজায় রাখা" সাংসদদের দায়িত্ব।
চিঠিতে বিড়লা লিখেছেন, "ভারতের সংসদ হলো সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, যা দেশের ১৪০ কোটি নাগরিকের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করে। সংসদে ওঠা প্রতিটি কণ্ঠস্বর লক্ষ লক্ষ মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা এবং প্রত্যাশার প্রতীক। সংসদ ভবন আমাদের সকলের জন্য একটি পবিত্র স্থান। এই সভা আলোচনা, সংলাপ, মতৈক্য এবং ভিন্নমতের প্রতিনিধিত্ব করে। এই সভা বরাবরই উচ্চ মান এবং গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে, দেশের সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও সম্মান বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের আরও বেশি।"
বিড়লা উল্লেখ করেছেন যে সংসদের ভেতরে বেশ কিছু সাংসদ যেভাবে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করছেন এবং যে ধরনের ভাষা বলছেন, তা সকলের জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে এবং সম্মিলিতভাবে গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।
তিনি আরও যোগ করেন, "লোকসভার স্পিকার হিসেবে আমি এই চিঠিটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা হিসেবে লিখছি না, বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ থেকে লিখছি। বেশ কিছুদিন ধরে, আমাদের কিছু সম্মানীয় সদস্যের কারণে সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা এবং সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তা সে অধিবেশন কক্ষের ভিতরেই হোক বা সংসদ ভবন চত্বরে। যেভাবে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও প্রতীক প্রদর্শন করা হচ্ছে, যে ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং যে ধরনের আচরণ দেখা যাচ্ছে, তা আমাদের সকলের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এই পরিস্থিতি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে এবং সম্মিলিতভাবে গুরুত্ব দিয়ে ভাবা ও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।"
লোকসভার স্পিকার আরও জানান যে তিনি সংসদের সম্মান রক্ষা ও প্রচারের জন্য বারবার চেষ্টা করেছেন। তিনি সাংসদদের মর্যাদাপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে এবং "আচরণ ও ব্যবহারের উচ্চ মান" বজায় রাখার জন্য তাঁর অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। চিঠিতে লেখা হয়েছে, "আমাদের সভায় বরাবরই মর্যাদাপূর্ণ আলোচনার এক গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। অতীতে, যখনই সভায় আচরণ ও ব্যবহারের মানে পতন দেখা গেছে, তখনই সব রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে, যাতে আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা ও প্রচার নিয়ে আলোচনা করা যায়। আমিও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকে, রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে আপনাদের কাছে বারবার আচরণ ও ব্যবহারের উচ্চ মান বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করেছি।"
ওম বিড়লা চিঠি শেষ করেছেন এই আর্জি জানিয়ে যে সাংসদরা যেন এই বিষয়ে "গুরুত্ব সহকারে ভাবনাচিন্তা এবং আত্মদর্শন" করেন। তিনি বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলির নেতাদের অনুরোধ করেছেন যাতে তাঁরা নিশ্চিত করেন যে সাংসদরা সংসদে শৃঙ্খলা এবং নৈতিক আচরণ বজায় রাখেন।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষায় সাংসদরা সহযোগিতা করবেন। ওম বিড়লা বলেন, "আমার বিনীত অনুরোধ, গোটা দেশ আমাদের আচরণ দেখে, এবং ভারতের সংসদ দেশের সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে একটি বার্তা দেয়। আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান বজায় রাখার জন্য গুরুত্ব সহকারে ভাবনাচিন্তা এবং আত্মদর্শন করার সময় এসেছে।"
চিঠির শেষে তিনি বলেন, "বিশেষ করে, সমস্ত রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সভায় সমস্ত দলের নেতাদের বিশেষ প্রচেষ্টা চালাতে হবে যাতে তাঁদের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষের ভিতরে এবং সংসদ ভবন চত্বরে শৃঙ্খলা এবং উচ্চ নৈতিক আচরণ বজায় রাখেন। আমরা যদি সবাই মিলে এই দিকে কাজ করি, তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা অবশ্যই আরও শক্তিশালী হবে এবং সভার মর্যাদা ও সম্মান বাড়তে থাকবে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে আপনারা সবাই এই মহান প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ঐতিহ্য রক্ষায় পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।" উল্লেখ্য, বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব সোমবার শুরু হওয়ার পর থেকেই সংসদের উভয় কক্ষ বারবার মুলতুবি হয়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটেই স্পিকারের এই চিঠি।