
বাদল অধিবেশন চলাকালীন সংসদে আলোচনার জন্য বিরোধী শিবির বেশ কয়েকটি শর্ত রেখেছে। সোমবার কংগ্রেস সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন এই শর্তগুলির কথা জানান। তাঁর সাফ কথা, ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে।
সংবাদ সংস্থা ANI-কে নাসির হুসেন বলেন, পুলিশি পদক্ষেপটি ছিল "বর্বরোচিত"। এই বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবিও করেন তিনি। হুসেন বলেন, "আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, বিরোধীদের আলোচনায় কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের কয়েকটি মূল দাবি ছিল। তার মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিটি পূরণ হয়েছে। ২০ জুলাই পড়ুয়াদের ওপর যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে, তার জন্য অমিত শাহকে জবাব দিতে হবে। তৃতীয় দাবি হলো, প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। আমরা এই বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চেয়েছি। পড়ুয়াদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করা যায় না। আমাদের দাবি পূরণ হলেই আমরা আলোচনায় রাজি। আমরা আলোচনা চাই, কিন্তু সরকারকেও দায়বদ্ধ থাকতে হবে।"
কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারকে স্বাগত জানানো হচ্ছে, কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য যারা দায়ী, তাদেরও হিসেব দিতে হবে। পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমস্যাটা আইনের অভাব নয়, বরং তা প্রয়োগের সদিচ্ছার অভাব।
তিওয়ারি আরও বলেন, "প্রশ্নটা আইন নিয়ে নয়, কারণ আইন আগেও ছিল। এটা টাস্ক কমিটির বিষয়ও নয়, এটা সদিচ্ছার বিষয়... ওরা প্রাইভেট কোম্পানি এবং কোচিং ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত লোকেদের দিয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি করিয়েছে। অর্থাৎ, দোষীরা এখানেই বসে আছে, আর তদন্ত চলছে অন্য জায়গায়। এই সব সিদ্ধান্ত ধর্মেন্দ্র প্রধান নিয়েছিলেন। SIT-এর উচিত প্রথমে তাকে জেরা করা। আমি শুধু বলতে চাই, সংস্কারের জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা স্বাগত। কিন্তু যারা দোষী, তাদের ছাড়া চলবে না।"
প্রসঙ্গত, গত ২০ জুলাই পড়ুয়ারা তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে 'সংসদ চলো' মিছিলের ডাক দেয়। সেই সময় জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় বলে অভিযোগ। ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে CJP ছাত্র আন্দোলনের পর এই ঘটনা ঘটে। সরকার দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে সেই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
কংগ্রেস সাংসদ রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা, বিজয় কুমার ওরফে বিজয় বসন্ত এবং সৈয়দ নাসির হুসেনের পাশাপাশি সিপিআই সাংসদ পি সন্তোষ কুমার সংসদে একটি নোটিশ জমা দিয়েছেন। NEET-UG পরীক্ষার দুর্নীতি নিয়ে ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে পড়ুয়াদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সারাদেশে পরীক্ষা দুর্নীতি নিয়ে ছাত্র বিক্ষোভের মুখে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পরীক্ষা সংস্কারের জন্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা করেছেন।